কেন্দুয়ায় এক কলেজের সবাই ফেল
অধ্যক্ষ বললেন— শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় অমনোযোগী আবার অনেকেই গার্মেন্টে গেছে

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় ৮টি কলেজের মধ্যে একটি কলেজে কোনো শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় পাস করতে পারেননি। আরেকটি কলেজ থেকে কোনো পরীক্ষার্থী অংশ নেননি।
আজ শনিবার ফলাফল প্রকাশের পর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিকুল বারী এ তথ্যটি সত্যতা নিশ্চিত করেন।
শূন্য পাসের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি হলো উপজেলার বলাইশিমুল ইউনিয়নের গোপালপুর মডেল কলেজ। এর মধ্যে গোপালপুর মডেল কলেজের একজন শিক্ষার্থী এক বিষয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিলেন। গত বছর এক বিষয়ে ফেল করেছিলেন। এ বছরও তিনি ফেল করেছেন। কলেজটি নন এমপিওভুক্ত।
গোপালপুর মডেল কলেজের অধ্যক্ষ সুজিত কান্তি কর বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় মনোযোগী না। অনেকেই আবার গার্মেন্টসে চলে গেছে। এদিকে কলেজ এমপিওভুক্ত না হওয়ায় খণ্ডকালীন শিক্ষক দিয়ে কলেজ চালাতে হয়। এতে পড়াশোনা ব্যাহত হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে এই কলেজে আমিসহ শিক্ষক ৩ জন এবং কর্মচারী ২ জন।’
চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষায় সারা দেশে পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ এবং ময়মনসিংহ বোর্ডে পাসের হার ৫১.৪৮। এবার উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে কেন্দুয়ায় গড় পাসের হার ৪৯ দশমিক ৫৫ শতাংশ, যা নেত্রকোনা জেলার সামগ্রিক গড় ৪৩ দশমিক ৯১ শতাংশের চেয়ে কিছুটা বেশি। তবে এই কলেজে এমন ফলাফল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সামগ্রিক মানকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
শিক্ষা অফিস সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কলেজগুলোর প্রশাসনিক অবস্থা, পাঠদানের পরিবেশ ও শিক্ষকদের দায়বদ্ধতা খতিয়ে দেখা হবে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শফিকুল বারী বলেন, ‘গোপালপুর মডেল কলেজটির পাসের হার শূন্য রয়েছে এবং সেই কলেজের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে নীতিমালা অনুযায়ী বোর্ড এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় যে নির্দেশ দেবে, আমরা সে অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করব।’



