উজিরপুরে পাউবোর জমি দখল করে ভবন নির্মাণের অভিযোগ

পাউবোর অধিগ্রহণ করা জমি দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ। ছবি: আগামীর সময়
বরিশালের উজিরপুরের হারতা ইউনিয়নের পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অধিগ্রহণ করা জমি দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের দাবি, ভবনটির একটি অংশ পড়েছে এলজিইডির নতুন সেতুর সংরক্ষিত এলাকাতেও।
তবে অভিযুক্ত ব্যবসায়ী দাবি করেছেন, জমিটি তার কেনা। আর যদি পাউবোর কোনো অংশ পড়ে থাকে সেটিও লিজ নেওয়ার চালাচ্ছেন প্রক্রিয়া।
রবিবার সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, হারতা ইউনিয়নের নতুন এলজিইডি সেতুর দক্ষিণ পাশে পাউবোর অধিগ্রহণ করা জমিতে নির্মাণকাজ চলছে বহুতল ভবনের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হারতা বাজারের ব্যবসায়ী মো. ইউনুস আকন প্রভাব খাটিয়ে সরকারি জমি দখল করে নির্মাণ করছেন ভবন।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৬ সালে বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য অধিগ্রহণ করা হয় হারতা মৌজার প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ একর জমি। পরে ১৯৮৮ সালে সেখানে মাটি ভরাট করে নির্মাণ করা হয় বেড়িবাঁধ।
স্থানীয়দের দাবি, ওই অধিগ্রহণ করা জমির প্রায় ৩৫ শতাংশের ওপর নির্মাণ করা হয়েছে ভবনটি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক স্থানীয় ব্যক্তি জানিয়েছেন, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন অভিযুক্ত ব্যবসায়ী। বিষয়টি একাধিকবার পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
তাদের আশঙ্কা, এভাবে দখল অব্যাহত থাকলে বেদখলে চলে যাবে সরকারি সম্পত্তি।
অভিযোগের বিষয়ে মো. ইউনুস আকন জানিয়েছেন, জমিটি তার ক্রয় করা সম্পত্তি। তাই তিনি সেখানে ভবন নির্মাণ করছেন।
এলজিইডির সেতুর সংরক্ষিত এলাকা দখলের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেছেন, এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড বা এলজিইডি থেকে তাকে কোনো নোটিস দেয়নি। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নোটিস দিতে পারে। ভবনের কিছু অংশ পাউবোর জমির মধ্যে রয়েছে এবং সেই অংশ লিজ নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
তবে পাউবোর জমিতে বহুতল ভবন নির্মাণ আইনিভাবে সম্ভব কি না, এ প্রশ্ন করা হলে তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
উজিরপুর উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায় জানিয়েছেন, এলজিইডির সেতুর নির্মাণকাজ শুরুর সময় আপত্তি তুলেছিলেন ইউনুস আকন। পরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সার্ভেয়ার দিয়ে জমি মাপজোক করে সীমানা নির্ধারণের পর শুরু হয় নির্মাণকাজ।
উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলী সুজা আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, এলজিইডির সেতু কিংবা পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমি দখল করে কেউ ভবন নির্মাণ করতে পারবেন না। প্রভাব খাটিয়ে এ ধরনের কাজ করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাবেদ ইকবাল আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, যত প্রভাবশালীই হোন না কেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমি দখল করে ভবন নির্মাণের সুযোগ নেই। সরকারি জমি দখলের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দু-এক দিনের মধ্যে রাজস্ব কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবেন।
বরিশালের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. মামুন খন্দকার আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, সরকারি জমি দখলের অভিযোগ তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





