সবুজ পাতার আড়ালে শুধুই বঞ্চনা

সংগৃহীত ছবি
চা বাগানের সবুজ পাতার আড়ালে দীর্ঘদিনের বঞ্চনা আর জীবনযুদ্ধ। সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত পরিশ্রম করেও বর্তমান মজুরিতে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন শ্রমিকরা। তাই দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা, ন্যায্য শ্রম অধিকার নিশ্চিত, শ্রম অধিদপ্তরের হস্তক্ষেপমুক্ত চা শ্রমিক ইউনিয়নের অবাধ নির্বাচন এবং ৫ শতাংশ মজুরি বৃদ্ধির গেজেট প্রত্যাহারের দাবিতে মৌলভীবাজারের বিভিন্ন উপজেলায় গণবিক্ষোভে নেমেছেন চা শ্রমিকরা। সাম্প্রতিক সময়ে জেলার বিভিন্ন বাগানে কর্মবিরতি, বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছেন তারা।
শ্রমিকদের অভিযোগ, বর্তমানে দৈনিক ১৮৭ টাকা মজুরিতে সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটানো কঠিন। বাজারে চাল, ডাল, তেল, সবজি থেকে শুরু করে চিকিৎসা ও সন্তানদের পড়াশোনার খরচ— সবকিছু বেড়েছে। অথচ তাদের মজুরি সে তুলনায় বাড়েনি। শ্রমিক নেতারা বলছেন, সাম্প্রতিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধিতে কার্যত মাত্র ৮ টাকা যোগ হয়েছে।
কালিটি চা বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অনিমা অলমিক বলেছেন, বর্তমান মজুরিতে সম্মানজনক জীবনযাপন সম্ভব নয়। তাই শ্রমিকদের বেঁচে থাকার প্রয়োজনে ৫০০ টাকা দৈনিক মজুরির দাবি। মাথিউড়া চা বাগানের লালন রাজভর বললেন, আমরা সবসময় বঞ্চিত। দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাওয়ায় আমাদের নাজেহাল অবস্থা। শ্রমিক নেতা জনক লাল দেশোয়ারার দাবি, অবিলম্বে এই মজুরি কার্যকর করতে হবে।
নিউ সমনবাগ চা বাগানের শ্রমিক মনিমিতা বাকতি বললেন, শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার ও সম্মান নিশ্চিত করতে ৫০০ টাকা মজুরি বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই। নারী শ্রমিকরাও পুরুষদের সঙ্গে সমান তালে বাগানে শ্রম দিচ্ছেন।
শ্রমিক নেতাদের অভিযোগ, ইউনিয়ন নির্বাচনেও বাইরের হস্তক্ষেপের কারণে শ্রমিকদের প্রকৃত মতামত প্রতিফলিত হচ্ছে না। শ্রমিকরাই নিজেদের প্রতিনিধি বেছে নেওয়ার অধিকার ফিরে পেতে চান। শ্রম অধিদপ্তরের অযাচিত হস্তক্ষেপ বন্ধ করে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন তারা। চা শ্রমিকদের আরেকটি বড় দাবি ভূমির মালিকানা। শ্রমিক নেতারা বলছেন, প্রজন্মের পর প্রজন্ম চা বাগানে বসবাস করেও অনেক শ্রমিক ভূমিহীন। এতে তারা নাগরিক নানা সুযোগ-সুবিধা ও অধিকার থেকেও পিছিয়ে রয়েছেন।
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নিপেন পাল বলেছেন, দেশে বর্তমানে ১৭৮টি চা বাগান রয়েছে। সেখানে প্রায় এক লাখ নিবন্ধিত এবং ৫০ হাজারের বেশি অনিবন্ধিত শ্রমিক কাজ করছেন। কিন্তু তারা মাত্র ১৮৭ টাকা ৫০ পয়সা মজুরিতে প্রতিদিন কাজ করেন।




