সরকারি হাসপাতালে ৯৭০ টাকার টেস্ট বাইরে ৪৫৫০ টাকা
- সরকারি হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টা ডায়াগনস্টিক সেবা চালুর দাবিতে বরিশালে তরুণের অবস্থান কর্মসূচি।

ছবি: আগামীর সময়
সারা দেশের সরকারি হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টা ডায়াগনস্টিক সেবা চালুর দাবিতে বরিশালে একক অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন সজল কুমার পাল নামে এক তরুণ।
সোমবার দুপুরে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে তিনি এ কর্মসূচি পালন করেন। পরে তার দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে আরও কয়েকজন কর্মসূচিতে অংশ নেন।
সজল কুমার পাল বলেছেন, সরকারি হাসপাতালের ডায়াগনস্টিক সেন্টার ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকলে স্বল্প খরচে সাধারণ মানুষের পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্ভব হবে। এতে রোগীদের পাশাপাশি সরকারেরও অতিরিক্ত রাজস্ব আয় হবে।
তিনি বলেছেন, পিপিআরসির এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ৯৪ শতাংশ সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে বরাদ্দকৃত অর্থ পুরোপুরি ব্যয় করা সম্ভব হয় না। অব্যবহৃত অর্থ এ খাতে ব্যবহার করা যেতে পারে। এ ছাড়া সরকারি হাসপাতালগুলোতে কোটি টাকা মূল্যের এক্স-রে, সিটি স্ক্যান ও বিভিন্ন ল্যাবের যন্ত্রপাতি আগে থেকেই রয়েছে। তাই নতুন করে বড় ধরনের যন্ত্রপাতি কেনার প্রয়োজন নেই।
তার দাবি, শিফটভিত্তিক দায়িত্ব পালনের জন্য প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দিলেই ২৪ ঘণ্টা ডায়াগনস্টিক সেবা চালু করা সম্ভব। অতিরিক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে সরকারের যে রাজস্ব আয় হবে, তা দিয়েই কর্মীদের বেতনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যয় মেটানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে দক্ষ টেকনোলজিস্ট ও তরুণদের নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
তিনি আরও বলেন, পরীক্ষার ফি সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে আদায় করে সরাসরি রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিলে আর্থিক অনিয়মের সুযোগ কমবে।
সজল কুমার পালের মতে, বেসরকারি ল্যাবের তুলনায় সরকারি হাসপাতালে অনেক কম খরচে পরীক্ষা করানো সম্ভব। রাতে সরকারি ডায়াগনস্টিক সেবা চালু থাকলে রোগীদের অপ্রয়োজনে বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে হবে না। এতে রোগ নির্ণয় সহজ হবে এবং ভুল চিকিৎসা ও অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ঝুঁকিও কমবে।
তিনি বলেছেন, জরুরি কিছু রুটিন পরীক্ষা সরকারি হাসপাতালে প্রায় ৯৭০ টাকায় করা সম্ভব হলেও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে একই পরীক্ষার জন্য রোগীদের প্রায় ৪ হাজার ৫৫০ টাকা পর্যন্ত ব্যয় করতে হয়। এ বৈষম্য থেকে সাধারণ মানুষকে মুক্তি দিতে সরকারি হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টা ডায়াগনস্টিক সেবা চালুর দাবি জানান তিনি।




