ফরিদগঞ্জে গৃহবধূ মিশু হত্যা মামলায় আসামির যাবজ্জীবন

ছবি: আগামীর সময়
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে গৃহবধূ জাহেদা আক্তার মিশু (২০) হত্যা মামলায় সুজন খান (৩১) নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
আজ রবিবার দুপুরে চাঁদপুরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ সামছুন্নাহার এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি সুজন আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
সুজন ফরিদগঞ্জের চরমঘুয়া গ্রামের মসজিদসংলগ্ন খান বাড়ির আবুল বাশার খানের ছেলে। মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় অপর আসামিদের আদালত খালাস দিয়েছেন।
মামলার নথি ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে জাহেদা আক্তার মিশুর সঙ্গে পাশের সন্তোষপুর গ্রামের সোহেল বেপারীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর সোহেল কাতার চলে গেলে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মিশুর বিরোধ দেখা দেয়। একপর্যায়ে মিশুর মা ছালেহা বেগম মেয়েকে বাবার বাড়িতে নিয়ে আসেন। তবে এতে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের ক্ষোভ কমেনি। অভিযোগ রয়েছে, তারা মিশুকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।
২০১৯ সালের ২৯ জুলাই ভোর ছয়টার দিকে চরমঘুয়া গ্রামে মিশুর বাবার বাড়িতে যান সুজন। সেখানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মিশুর মাথা ও কানে আঘাত করেন তিনি। মিশুর মা ছালেহা বেগম বিষয়টি টের পেয়ে চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসে। গুরুতর আহত অবস্থায় মিশুকে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় সেদিনই মিশুর মা ছালেহা বেগম বাদী হয়ে ফরিদগঞ্জ থানায় সুজনকে প্রধান আসামি করে পাঁচজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। পুলিশ ২০১৯ সালের ৩১ জুলাই সুজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফরিদগঞ্জ থানার তৎকালীন উপ-পরিদর্শক (এসআই) উনুমং মায়মা তদন্ত শেষে সে বছরের ১৬ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দেন। ৩০ ডিসেম্বর আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) কোহিনুর রশিদ বলেন, দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত সুজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। অপর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের খালাস দেওয়া হয়েছে।
মামলায় আসামিপক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট আমিন মিয়া খোকন।






