অবরোধে পর্যটকশূন্য সাজেক, ফাঁকা রিসোর্ট-কটেজ

ছবি: আগামীর সময়
রাঙামাটির বাঘাইছড়ির জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাজেকে অবরোধ ও পর্যটন বন্ধের ঘোষণায় পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে পুরো এলাকা। পর্যটকদের আনাগোনা না থাকায় ফাঁকা পড়ে আছে রিসোর্ট ও কটেজগুলো। ক্রেতা না থাকায় স্থবির হয়ে পড়েছে দোকানপাট ও রেস্তোরাঁর ব্যবসা। এতে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি মানসিক দুশ্চিন্তায় পড়েছেন পর্যটননির্ভর ব্যবসায়ী, পরিবহনচালক ও কর্মচারীরা। এ পরিস্থিতিতে পর্যটন খাতের সংকট নিরসনে স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
রাঙামাটির জেলা প্রশাসক গত বুধবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেক পর্যটনকেন্দ্রে পর্যটকদের ভ্রমণ বন্ধ ঘোষণা করেন। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার সাজেকের উজোবাজার এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সশস্ত্র গোষ্ঠীর গোলাগুলির ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়।
আজ শুক্রবার পর্যটকদের উপস্থিতি না থাকায় পর্যটনকেন্দ্রটির ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।
কটেজ অ্যান্ড রিসোর্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব সাজেকের সাংগঠনিক সম্পাদক রাহুল চাকমার ভাষ্য অনুযায়ী, সাজেক পর্যটনকেন্দ্র থেকে দৈনিক প্রায় আড়াই কোটি টাকার আয় হয়। পর্যটকদের আগমন বন্ধ থাকায় এ খাতের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
রাহুল চাকমা বলেন, সাজেকের পর্যটন ব্যবসা মূলত মৌসুমনির্ভর। ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিনের স্বপ্ন নিয়ে এবং বিভিন্ন জায়গা থেকে ঋণ নিয়ে রিসোর্ট, কটেজ ও অন্যান্য পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছেন। বছরের অধিকাংশ সময়ের তুলনায় শীতের মৌসুমেই তাদের মূল ব্যবসা হয়। কিন্তু এই সময়ে পর্যটন কার্যক্রম ব্যাহত হলে তাদের বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়তে হয়।
তিনি আরও বলেন, পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ বা ব্যাহত হলে শুধু ব্যবসায়ীরাই ক্ষতিগ্রস্ত হন না; এর সঙ্গে পরিবহনচালক, রিসোর্টের কর্মচারী, পর্যটনসংশ্লিষ্ট শ্রমিকসহ বহু মানুষ জড়িত। তাদের অনেকেরই জীবিকা এই পর্যটনকেন্দ্রের ওপর নির্ভরশীল। এমন পরিস্থিতিতে তারা আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি মানসিকভাবেও বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছেন।
রাহুল চাকমার মতে, সাজেকে এমন পরিস্থিতি এবারই প্রথম নয়; প্রতিবছরই বিভিন্ন কারণে পর্যটন কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে ব্যবসায়ীদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও বিনিয়োগ ঝুঁকির মুখে পড়ে। তাই সাময়িকভাবে পর্যটন চালু করার উদ্যোগের পাশাপাশি সমস্যার স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন।
এদিকে সাজেক থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন জানান, এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। শুক্রবার নতুন করে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি বলেও তিনি জানান। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক রয়েছে।
সাজেকের পর্যটন খাতের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের মতে, পর্যটন কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা গেলে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি কর্মসংস্থানও সচল থাকবে। অন্যদিকে বারবার পর্যটন কার্যক্রম ব্যাহত হলে ব্যবসায়ীদের ঋণের কিস্তি, প্রতিষ্ঠানের পরিচালন ব্যয় এবং কর্মচারীদের বেতন পরিশোধের চাপ বাড়তে থাকবে।




