নদীতে ঝাঁপ দেওয়া তরুণী নিজেই গেলেন হাসপাতালে

মারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি নদীতে ঝাঁপ দেওয়া সেই তরুণী। গ্রাফিকস: আগামীর সময়
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে গড়াই নদীর সংযোগ সেতু থেকে ঝাঁপ দিয়েছিলেন এক তরুণী। ঘটনার প্রায় তিন ঘণ্টা পর তাকে জীবিত উদ্ধার করেছেন স্থানীয়রা। পরে তাকে কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কুমারখালী-যদুবয়রা সংযোগ সেতু এলাকার ঘটনা এটি।
উদ্ধার হওয়া শরমিলা খাতুন কুমারখালী উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের হোগলা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের স্নাতক শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় এক যুবকের স্ত্রী।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ইসমায়েল হোসেন রাকিব জানান, বন্ধুদের সঙ্গে
সেতুর ওপর দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি। এ সময় ওই তরুণীকেও সেখানে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন।
কিছু বুঝে ওঠার আগেই মেয়েটি নিজের কলেজ ব্যাগটি সেতুর ওপর রেখে নদীতে ঝাঁপ
দেন। প্রবল স্রোতের কারণে মুহূর্তের মধ্যেই যান তলিয়ে। পরে ব্যাগে
থাকা পরিচয়পত্র থেকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় এবং জাতীয়
জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করা হয়।
শরমিলার স্বামী আশিকুর রহমানের ভাষ্য, সকালে তার সঙ্গে শরমিলার পারিবারিক বিরোধ হয়। পরে কলেজে পরীক্ষা দিতে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। দীর্ঘ সময় বাড়ি না ফেরায় বিভিন্ন স্থানে তার খোঁজ শুরু করেন পরিবারের সদস্যরা। একপর্যায়ে স্থানীয় এক ব্যক্তি ফোন করে জানান, গড়াই নদীতে ঝাঁপ দিয়েছেন তার স্ত্রী।
তরুণীর দুলাভাই জানান, খবর পেয়ে নৌকা নিয়ে নদীতে তল্লাশি শুরু করেন স্থানীয়রা। প্রায় তিন ঘণ্টা পর মূলগ্রাম এলাকায় শরমিলাকে জীবিত অবস্থায় খুঁজে পাওয়া যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। কিছুটা অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন তিনি।
তবে তরুনীর পরিবারের দাবি, ঝাঁপ দেওয়ার সময় শরমিলার সঙ্গেই ছিলেন তার স্বামী। ঘটনার পর দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন আশিকুর। এরপর থেকে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
তরুণীকে উদ্ধারের পর, এ বিষয়ে জানতে আশিকুরকে একাধিকবার ফোন করলেও, তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।
কুমারখালী থানার ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, ‘গড়াই সেতু থেকে ঝাঁপ দেওয়া কলেজ শিক্ষার্থীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি। ঘটনার সময় তার স্বামীর উপস্থিত থাকা এবং পরবর্তীতে তার উধাও হওয়ার বিষয়টি আমরা গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখছি।’




