ভিত্তিপ্রস্তরেই কেটে গেল দুই বছর
- শহীদ আবু সাঈদ স্মৃতি জাদুঘর-স্তম্ভ

সংগৃহীত ছবি
চব্বিশের আন্দোলনের পর চলে গেছে ২০২৫ সাল। এসেছে ২০২৬-এর জুলাই। কিন্তু গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তার স্মৃতি সংরক্ষণসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের জন্য হাজার কোটি টাকার প্রকল্প দুই বছরেও দেখেনি আলোর মুখ।
তোরণ, জাদুঘর, স্ট্রিট মেমোরি স্ট্যাম্প ও স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হলেও কার্যক্রম রয়ে গেছে তিমিরেই। এ নিয়ে আবু সাঈদের সহপাঠীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরাজ করছে ক্ষোভ। ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেটে পুলিশের গুলিতে নিহত হন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই স্থানটি ‘শহীদ আবু সাঈদ গেট’ নামে পরিচিতি পায়। ঘটনার বছরপূর্তিতে ২০২৫ সালের ১৬ জুলাই সেখানে আবু সাঈদ তোরণ ও জাদুঘর এবং সংলগ্ন পার্কের মোড়ে শহীদ আবু সাঈদ স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। জাঁকজমকপূর্ণ সেই আয়োজনে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল, পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ শহীদ আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন উপস্থিত ছিলেন। এরপর কেটে গেছে প্রায় আরও এক বছর। কিন্তু ভিত্তিপ্রস্তরের ফলক ছাড়া আর কিছুই হয়নি।
জানা যায়, চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর শহীদ আবু সাঈদের স্মৃতি সংরক্ষণে ১ হাজার ৯০ কোটি টাকার একটি মেগা উন্নয়ন প্রকল্পের ঘোষণা দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকাত আলী। এরই অংশ হিসেবে ২০২৫ সালের ১৬ জুলাই এসব ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম মহানায়কের স্মৃতি সংরক্ষণে ফলকগুলোও এখন অযত্ন-অবহেলায়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দর্শনার্থীরা এসে শহীদ আবু সাঈদের স্মৃতিবিজড়িত স্থানে কোনো স্থায়ী কাঠামো না দেখে হতাশা নিয়েই ফিরছেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সভা-সমাবেশে শহীদ আবু সাঈদের নাম ব্যবহার করে শুধু বাহবা কুড়াচ্ছেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দাবি, প্রকল্পের নকশা প্রণয়ন এবং বাজেট বরাদ্দের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসির সঙ্গে যোগাযোগ চলছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেটে সড়কের পাশে স্মৃতি সংরক্ষণে স্থাপন করা ভিত্তিপ্রস্তরের ফলকটি পড়ে আছে কোনো যত্ন ছাড়াই। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থী আসেন শহীদ আবু সাঈদের স্মৃতিবিজড়িত এই স্থানে। যশোর থেকে আসা নুসরাত কুলসুম ক্ষোভ প্রকাশ করেন, ‘শহীদ আবু সাঈদের আত্মত্যাগ আমাদের শিখিয়েছে— দেশের জন্য, মানুষের অধিকার ও ন্যায়ের জন্য একজন তরুণও ইতিহাস বদলে দিতে পারে। শুনেছিলাম আবু সাঈদকে নিয়ে তার ক্যাম্পাসে অনেক কিছুই হবে, কিন্তু এখানে এসে কষ্ট পাওয়া ছাড়া কিছুই পাইনি।’
শহীদ আবু সাঈদের সহযোদ্ধা বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী শামসুর রহমান সুমন অভিযোগ করেন, ‘জুলাই বিপ্লবের দুই বছরপূর্তিতে এসেও যদি প্রথম শহীদের তোরণ ও জাদুঘর আলোর মুখ না দেখে, তবে তা ইতিহাসের সঙ্গে প্রতারণার শামিল।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক এ টি জি এম গোলাম ফিরোজ দাবি করেন, ‘আমরা ডিপিপি সাবমিট করেছি। এটা প্রথমে ইউজিসিতে যাবে, তারপর সেখান থেকে পাস হয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্ল্যানিং ও একনেকে পাস হলেই কাজ শুরু হবে।’ রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. ফেরদৌস রহমান জানান, এটি এখন প্রক্রিয়াধীন এবং সরকারের সবুজ পাতার তালিকায় রয়েছে।
উপাচার্য ড. শওকাত আলী বললেন, ‘ডিপিপি এরই মধ্যে জমা দেওয়া হয়েছে। ইউজিসির অনুমোদনের পর এটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় হয়ে একনেকে উপস্থাপন করা হবে। অনুমোদন মিললেই মূল নির্মাণকাজ শুরু করা সম্ভব হবে।’




