ভাতিজার শাবলের আঘাতে থামল চাচির প্রাণ, আহত ৩

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
কুড়িগ্রামের রৌমারীতে ভাতিজার শাবলের আঘাতে সোনা ভানু (৪৫) নামের এক নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন। আজ শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের উত্তর বারবান্দা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সোনা ভানু ওই গ্রামের আব্দুল জলিলের স্ত্রী। আহত ব্যক্তিরা হলেন জোসনা খাতুন (২৫), মোমেনা খাতুন (৪০) ও খলিলুর রহমান (৫০)। তাদের রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত ফারুক আহমেদকে (৩৫) আটক করেছে পুলিশ। তিনি নিহত সোনা ভানুর ভাতিজা এবং প্রয়াত জয়নাল আবেদীনের ছেলে।
রৌমারী সদর ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ফিরোজ আহমেদ জানান, শুক্রবার সকাল সাতটার দিকে ফারুক তাঁর ছোট ভাই ও মাকে ঘরের ভেতরে আটকে রেখে দরজা বন্ধ করে দেন। এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, তাকে মারার জন্য পরিবারের সদস্যরা পুলিশ নিয়ে এসেছেন। পরে স্বজন ও স্থানীয় লোকজন তাকে দরজা খোলার জন্য অনুরোধ করেন। একপর্যায়ে ফিরোজ আহমেদসহ কয়েকজন সেখানে গিয়ে তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। তবে তিনি দরজা খোলেননি। বরং তার মাকে আঘাত করার চেষ্টা করেন বলে জানান ফিরোজ আহমেদ।
ফিরোজ আহমেদের ভাষ্য, পরিস্থিতি দেখে তারা সেখান থেকে চলে আসেন। পরে জানতে পারেন, ফারুক ঘরের দরজা খুলে বের হয়ে তার চাচি সোনা ভানুর মাথায় শাবল দিয়ে আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় সোনা ভানুর। এরপর তিনি তার বড় বোন, ছোট ভাইয়ের স্ত্রী ও চাচাকে আঘাত করেন। পরে পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয় লোকজন তাকে ধরে বেঁধে রাখেন।
ইউপি সদস্য ফিরোজ আহমেদ আরও জানান, ফারুক মাদক সেবন করেন বলে তিনি জানেন। অতিরিক্ত মাদক সেবনের কারণে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে তার ধারণা। তবে এ বিষয়ে পুলিশের তদন্তের ফল এখনো জানা যায়নি।
রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাউসার আলী বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। ফারুক আহমেদকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়েছে। সোনা ভানুর মরদেহও থানায় আনা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।



