যবিপ্রবিতে ডাইনিংয়ের খাবার খেয়ে অসুস্থ নারী শিক্ষার্থীরা, তদন্ত কমিটি গঠন

ছবি: আগামীর সময়
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) একটি আবাসিক হলের ডাইনিংয়ের খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন শতাধিক নারী শিক্ষার্থী। এ ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে গঠিত হয়েছে তদন্ত কমিটি। বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে ক্লাস ও সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা।
অসুস্থদের চিকিৎসা খরচ বহন, স্বাস্থ্যকর খাবার প্রদান, চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রমে শিথিলতা এনেছে প্রশাসন। আজ শনিবার থেকে আগামী সোমবার পর্যন্ত বন্ধ থাকবে সব ধরনের ক্লাস ও সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা।
তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. ইমরান খানকে।
হাসপাতালে এখনো ভর্তি আছেন প্রায় ৭০ জনের অধিক শিক্ষার্থী।
আদ্-দ্বীন সকিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, বমি, পাতলা পায়খানা, পেটব্যথা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া ও তীব্র শারীরিক দুর্বলতার লক্ষণ দেখা দিয়েছে অধিকাংশ ছাত্রীর মধ্যে। এ ছাড়া অনেকের অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।
অসুস্থদের দেখতে সহপাঠীরা হাসপাতালে ভিড় করায় বিঘ্ন ঘটছে সেবাদানে। সহপাঠীদের বেশি সংখ্যায় হাসপাতালে না যাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
কি ধরনের ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হয়েছে জানতে চাইলে দায়িত্বরত চিকিৎসকরা জানান, ল্যাব ডেস্টের জন্য স্যাম্পল পাঠিয়েছেন তারা। ফলাফল আসতে প্রায় ৭২ ঘণ্টা সময় লাগবে। তখন নিশ্চিত করে বলতে পারবেন তারা।
অসুস্থ শিক্ষার্থীদের পর্যবেক্ষণে রাখার ব্যবস্থা করেছে যবিপ্রবি হল কর্তৃৃপক্ষ। বীর প্রতীক তারামন বিবি ছাত্রী হলের নিচতলায় শিক্ষার্থীদের সার্বক্ষণিক জরুরি চিকিৎসার জন্য একটি কক্ষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যেখানে নিয়োজিত থাকবেন চিকিৎসক ও সেবিকারা। এ ছাড়া অসুস্থ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যকর খাবারের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার সকালে যবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীরের উপস্থিতিতে এক জরুরি সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
যবিপ্রবির তথ্য কর্মকর্তা নাজমুল হোসাইন জানান, গত বুধবার (২৩ এপ্রিল) রাতে বীর প্রতীক তারামন বিবি ছাত্রী হলের ডাইনিংয়ে খাবার খায় ১৮৬ জন শিক্ষার্থী। পরদিন ভোর ৪টা থেকে একে একে অসুস্থ হতে শুরু করে শিক্ষার্থীরা। পর্যায়ক্রমে অসুস্থ হয়ে পড়ে ১০০ জন। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে ভিড় করেন অসুস্থ শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে রোগীর সংখ্যা দ্রুত বেড়ে যায়। মেডিকেল সেন্টারের কিছু চিকিৎসকের অনুপস্থিতির কারণে কর্তব্যরত চিকিৎসক ও সহকারীরা চাপ সামাল দিতে হিমশিম খেতে থাকেন। এ অবস্থায় ৭০ জনের অধিক শিক্ষার্থীকে শহরের আদ্-দ্বীন সকিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছে তারা।

