মাাদারীপুর
নৌকার জীবন ছেড়ে ডাঙ্গায় স্থায়ী বেদেরা

ছবি: আগামীর সময়
মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার মাদবরেরচর ইউনিয়নের পাঁচ্চর-কাওড়াকান্দি পুরাতন সড়কের পাশে দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেছেন বেদে সম্প্রদায়ের অন্তত অর্ধশতাধিক পরিবার।
প্রায় ২০ বছর আগে এখানে অস্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করলেও এখন তারা স্থায়ী ঘরবাড়ি তৈরি করে শুরু করেছেন জীবনের নতুন অধ্যায়।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এসব পরিবারের সদস্য সংখ্যা প্রায় আড়াই শতাধিক। শুরুতে ছোট খুপড়ি ও তাবুতে বসবাস করলেও সময়ের সঙ্গে আর্থিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় অনেকেই এখন নির্মাণ করেছেন পাকা ও আধাপাকা ঘর।
একসময় নদীপথে নৌকায় ভেসে ভেসে জীবিকা নির্বাহ করা বেদেরা এখন যুক্ত হচ্ছেন ভিন্ন পেশায়। কেউ চালাচ্ছেন ব্যাটারিচালিত ভ্যান, কেউ বিক্রি করছেন আইসক্রিম, আবার অনেকে কাজ করছেন রাজমিস্ত্রি বা দিনমজুরের।
দয়াল সরদার নামের এক বেদে বাসিন্দা জানান, নদীপথ শুকিয়ে যাওয়ায় আগের মতো চলাচল ও পেশা ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। শিবচরে এসে আর ফিরে যাওয়া হয়নি। এখন অনেকেই হয়েছেন ভোটার এবং স্থানীয়দের সঙ্গে মিলেমিশে করছেন বসবাস। তার ভাষ্য, সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো সন্তানদের এখন পাঠাতে পারছেন স্কুলে।
আরেক বাসিন্দা মো. হাসিবুল বলছিলেন, আগে নৌকায় ভ্রমণ করে জীবিকা চালানো হলেও এখন মানুষ আগের মতো করে না বিশ্বাস। কমে গেছে আয়ও। তাই অনেকে বদল করেছেন পেশা।
নারী সদস্য কুলসুম জানান, আগে তারা গ্রামে গ্রামে ঘুরে সিঙ্গা লাগানো ও বিক্রি করতেন ওষুধ। এখন সেই কাজ কমে গেছে অনেকটাই।
স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন একই এলাকায় বসবাস করায় বেদে সম্প্রদায় ধীরে ধীরে যুক্ত হচ্ছে মূলধারার জীবনে। তাদের মধ্যে এখনও সামাজিক ঐতিহ্য থাকলেও আধুনিক জীবনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার চলছে চেষ্টা।
মাদবরেরচর ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান সুলতানা ফেরদৌসী বললেন, প্রায় দুই দশক ধরে এখানে বসবাস করছেন তারা। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হলে তারা উপকৃত হবেন। বর্তমানে অনেকেই ভ্যান চালানো, অটোরিকশা চালানো, দিনমজুর ও ছোট ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। তাদের সন্তানরাও এখন করছে স্কুল ও মাদরাসায় পড়াশোনা।






