দ্বিতীয় স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় এমপি নজরুলের বিচার দাবিতে শ্যামনগরে বিক্ষোভ

এমপি জি এম নজরুল ইসলামের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ করেন স্থানীয়রা। ছবি: আগামীর সময়
সাতক্ষীরার সংসদ সদস্য জি এম নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর ঘটনায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হয়েছে তার নির্বাচনী এলাকায়। বিক্ষোভকারীরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও গাজী নজরুলের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।
আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ‘শ্যামনগর উপজেলা সচেতন নাগরিক সমাজ’-এর ব্যানারে এ বিক্ষোভ মিছিল হয়। মিছিলটি শ্যামনগর পৌরসদরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। বিক্ষোভকারীরা নজরুলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। এ সময় নজরুলের কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়।
বিক্ষোভকারীরা বলেছেন, মরিয়মের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করতে হবে। এ ঘটনায় কোনো ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা বা অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেলে তার রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় বিবেচনা না করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া রেজাউল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম ও আজু মোল্লাসহ কয়েকজন বলেন, এই ঘটনার সঙ্গে যাদের সংশ্লিষ্টতা তদন্তে প্রমাণিত হবে, তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। নজরুল যদি এই ঘটনায় অপরাধী প্রমাণিত হন, তাহলে তার সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। কোনো রাজনৈতিক প্রভাব বা ক্ষমতার কারণে বিচারপ্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করা যাবে না।
গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহ শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় গাজী নজরুল, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগম ও মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে।
তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নজরুলকেও হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
প্রবীণ রাজনীতিক নজরুল সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য। তিনি জামায়তে ইসলামী থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন।
গত জুলাইয়ে মরিয়মের সঙ্গে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর নজরুল তার দ্বিতীয় বিয়ের খবর দিয়েছিলেন। তখন তার প্রথম স্ত্রীও স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ের খবরটি নিশ্চিত করেন।
তবে নৈতিক স্খলনের কারণ দেখিয়ে জামায়াতে ইসলামী তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে। এরপরও নজরুলের সংসদ সদস্য পদ টিকে আছে।




