সেই অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি

দৈনিক আগামীর সময়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় চরদুর্লভ খান আব্দুল হাই সরকার স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে শিক্ষক-কর্মচারীদের করা দুর্নীতি, আর্থিক অনিয়ম ও প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে ১০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
গত ৩০ জুলাই আগামীর সময়ে ‘অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ১১ শিক্ষক-কর্মচারীর’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত সোমবার প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শন করেন কাপাসিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল আরিফ সরকার। পরে তিনি তদন্ত কমিটি গঠন করেন।
তদন্ত কমিটির সদস্য গোলাম ফারুক ও সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, তারা অফিস আদেশ পেয়েছেন। অভিযোগের প্রতিটি বিষয় যাচাই, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা ও প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।
প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ১১ শিক্ষক-কর্মচারী লিখিত অভিযোগ করেছেন। তাদের পক্ষে সিনিয়র শিক্ষক কফিল উদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হাফিজুল হকের কাছে অভিযোগটি জমা দেন।
অভিযোগকারীদের দাবি, ২০২৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে নানা অনিয়ম হয়েছে। এক বছরের বেশি সময় ধরে আয়-ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব উপস্থাপন না করা, বিভিন্ন খাতের অর্থ নিয়ম অনুযায়ী ব্যাংকে জমা না দেওয়া এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধে অনিয়মের অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ছাড়া সভাপতির অনুমতি ছাড়া প্রতিষ্ঠানের তিনটি বড় গাছ বিক্রি করে অর্থের যথাযথ হিসাব না দেওয়া, সময়মতো ম্যানেজিং কমিটি গঠন না করা এবং এনটিআরসির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের জন্য আবেদন না করার অভিযোগও রয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. নুরুল ইসলাম বলেছেন, ‘অভিযোগের বিষয়ে আমি অবগত। যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা দেব।’
কাপাসিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল আরিফ সরকার বলেছেন, ‘অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’




