আওয়ামী লীগের আর পুনরুত্থান হবে না : বিমানমন্ত্রী

জামালপুর জেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে কথা বলেন বিমানমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত। ছবি: আগামীর সময়
গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ আর রাজনীতিতে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
আজ শনিবার দুপুরে জামালপুর জেলা পরিষদ মিলনায়তনে সংসদ সদস্যদের সম্মাননা এবং বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেছেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট মোকাবিলায় সরকারের আগাম পরিকল্পনা ছিল না। ভবিষ্যতের জ্বালানি চাহিদা বিবেচনায় গ্যাসকূপ খনন ও উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে বর্তমানে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেছেন, ‘আমার মনে হয়, তাদের ধারণা ছিল, কোনো একটি দেশের সহযোগিতা নিয়ে ক্ষমতায় টিকে থেকে লুটপাট করবে। সর্বস্তরে নিজেদের লোক বসিয়ে রাখবে। গ্যাস, বিদ্যুৎ বা খাবার পাওয়া গেল কি না, তা নিয়ে তাদের মাথাব্যথা থাকবে না। কেউ কিছু বললে তাকে ধরে মারবে। যেভাবে ১৭ বছর আমাদের গুম করা, খুন করা হয়েছে।’
রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মানুষের অধিকার ও দেশের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন হয়েছে। বিচারহীনতা, লুটপাট, অর্থ আত্মসাৎ, খুন ও গুমের ঘটনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। এসব কর্মকাণ্ডের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আসতে হচ্ছে, ভবিষ্যতেও হতে হবে।
আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফিরে আসার সম্ভাবনা নাকচ করে মন্ত্রী বলেছেন, এ দেশে আর আওয়ামী লীগের কোনো অবস্থাতেই পুনরুত্থান হবে না। ডিসেম্বরের মধ্যে ফিরে আসার যে কথাবার্তা বলা হচ্ছে, সেগুলো হাস্যকর। পৃথিবীর ইতিহাসে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে বিদায় নেওয়া কোনো সরকার আবার পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে, এমন নজির কোথাও নেই।
জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, সুলতান মাহমুদ বাবু, ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনি। এ সময় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইউসুপ আলী, পুলিশ সুপার ফারজানা ইয়াছমিনসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা এবং বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান শেষে ৫৭১টি মসজিদ, মাদ্রাসা ও বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মোট ১ কোটি ৫৩ লাখ টাকার অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়।




