তাকবিরের ধ্বনি ও সম্প্রীতির কোলাকুলি
জমিয়তুল ফালাহ ময়দানে চট্টগ্রামের প্রধান ঈদ জামাত

ছবি: আগামীর সময়
ভোরের আলো ফুটতেই বন্দরনগরী চট্টগ্রামের চারপাশ মুখরিত হয়ে ওঠে—‘আল্লাহু আকবর আল্লাহু আকবর, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবর আল্লাহু আকবর, ওয়ালিল্লাহিল হামদ’ পবিত্র এই তাকবির ধ্বনিতে। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও ত্যাগের অনন্য মহিমায় চট্টগ্রামে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। আজ বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল ৭টায় নগরীর ঐতিহাসিক জমিয়তুল ফালাহ্ জাতীয় মসজিদ ময়দানে চট্টগ্রামের প্রধান ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ঈদের এই সকালকে ঘিরে চারদিকে ছিল উৎসবের আমেজ। কেউ বাবার হাত ধরে, আবার কেউ বন্ধুদের সঙ্গে দলবেঁধে শামিল হতে ছুটে আসেন এই ঐতিহাসিক ময়দানে। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে পুরো ময়দান যেন এক চেনা মিলনমেলায় পরিণত হয়। প্রায় ৬৫ হাজার বর্গফুট এলাকাজুড়ে স্থাপিত বিশাল প্যান্ডেলের নিচে কাতারবন্দি হয়ে ঈদের নামাজ আদায় করেন হাজারো ধর্মপ্রাণ মুসল্লি।
জমিয়তুল ফালাহ্ ময়দানের এই প্রধান জামাতে প্রথম সারিতে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করেছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবু সুফিয়ান এবং চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। নামাজ শেষে প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দিন দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, “ত্যাগের মহিমায় যেভাবে ঈদুল আজহা উদযাপিত হচ্ছে, সারা বছর যেন এই ত্যাগের ধারা আমরা আমাদের জীবনে অব্যাহত রাখি। সকলের ঈদ আনন্দময় হোক।”
এখানে ঈদের প্রথম জামাতে ইমামতি করেন জমিয়তুল ফালাহ্ মসজিদের খতিব সৈয়দ আবু তালেব মোহাম্মদ আলাউদ্দীন আল কাদেরী। অবশ্য নামাজ শুরুর আগেই সমবেত মুসল্লিদের উদ্দেশে বাংলায় বিশেষ আলোচনা করা হয়। এ সময় পবিত্র কোরবানির তাৎপর্য ও গুরুত্ব, ইসলামের ইতিহাসে এর পটভূমি এবং সঠিক নিয়মে পশু জবাই ও মাংস বিলি-বণ্টনের ধর্মীয় নিয়মাবলি নিয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করা হয়। এরপর অতিরিক্ত তাকবিরের সাথে দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ আদায় শেষে খতিব সাহেব আরবিতে খুতবা পাঠ করেন, যেখানে কোরবানির ধর্মীয় বিধান ও নানাবিধ গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরা হয়।
নামাজ ও খুতবা শেষে সমবেত মুসল্লিরা মহান আল্লাহর দরবারে দুই হাত তুলে আখেরি মোনাজাতে অংশ নেন। কান্নায় ভেঙে পড়া সেই মোনাজাতে দেশ ও জাতির সুখ-সমৃদ্ধি, উপস্থিত সবার মঙ্গল এবং সারা বিশ্বের নির্যাতিত মুসলমানদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়। মোনাজাত শেষ হতেই শুরু হয় চিরন্তন কোলাকুলি ও ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ঈদের এই প্রধান জামাতটি অনুষ্ঠিত হয়। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারিসহ ময়দান জুড়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছিল কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
এদিকে, জমিয়তুল ফালাহ্ ময়দানে প্রথম জামাত শেষ হওয়ার পর সকাল ৮টায় দ্বিতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ইমামতি করেন মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ আহমদুল হক। এছাড়া জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় সকাল ৮টায় জিমনেশিয়াম মাঠে চট্টগ্রামের আরেকটি বড় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি চসিকের তত্ত্বাবধানে লালদীঘি শাহী জামে মসজিদসহ শহরের অন্যান্য মসজিদ ও আঞ্চলিক ঈদগাহ কমিটিগুলোর ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন স্থানে উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদের নামাজ সম্পন্ন হয়।
ঈদের প্রধান এই ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ হতেই চেনা পথ ধরে নগরবাসী নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যান এবং মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে সামর্থ্য অনুযায়ী পশু কোরবানির প্রক্রিয়া শুরু করেন।






