পাঁচ ঘন্টায় শহর পরিষ্কারের দাবি চসিক মেয়রের, মাঠকর্মীরা বললেন ৮০ শতাংশ

ছবি: আগামীর সময়
ছয় ঘন্টা সময়সীমা নির্ধারণ করা হলেও পাঁচ ঘন্টার মধ্যেই চট্টগ্রাম নগরীতে কোরবানির বর্জ্য শতভাগ অপসারণ হয়েছে বলে দাবি করেছেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তবে মাঠে থাকা পরিচ্ছন্ন বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত প্রায় ৮০ শতাংশ বর্জ্য অপসারণ করা গেছে।
প্রতিবছরের মতো এবারও ঈদুল আজহার দিনে আজ বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল ৮টা থেকে বর্জ্য অপসারণের কাজ শুরু করেন সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্ন বিভাগের কর্মীরা। অন্যান্য বছর ৮টা থেকেই ক্ষণ গণনা শুরু হতো। কিন্তু এবার বর্জ্য আবর্জনাগারে নিয়ে যাবার সময় দুপুর ২টা থেকে হিসেব করে ছয় ঘন্টা নির্ধারণ করে দেন মেয়র। এ হিসেবে রাত ৮টায় বর্জ্য অপসারণ শেষ হওয়ার কথা।
তবে মেয়র শাহাদাত হোসেন জানালেন, তিনি সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে কোথাও বর্জ্য পড়ে থাকতে দেখেননি। মোটামুটি ৭টার মধ্যেই চট্টগ্রাম শহর পরিস্কার হয়ে গেছে বলে দাবি মেয়রের। রাত ৮টায় নগরীর দামপাড়ায় সিটি করপোরেশনের বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম তদারকির জন্য খোলা নিয়ন্ত্রণ কক্ষে মেয়র সাংবাদিকদের কাছে সর্বশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরেন।
চসিকের নিজস্ব ৩ হাজার ২০০ জন কর্মী ৩৭৯টি যানবাহন নিয়ে নগরীর ৪১টি ওয়ার্ড থেকে দিনভর বর্জ্য সংগ্রহ করে আবর্জনাগারে নিয়ে যান। প্রথমে অলিগলি, পাড়া-মহল্লার ভেতর থেকে বর্জ্য সংগ্রহ করে মূল সড়কে এনে জমা করা হয়। এরপর পশু জবাইয়ের স্থান পরিস্কার করে ব্লিচিং পাউডার ছিটিয়ে দেওয়া হয়।
দুপুর ২টা থেকে মূল সড়কে জমা করা বর্জ্য মূলত আবর্জনাগারে নিয়ে যাবার কাজ শুরু হয়। নগরীর কাজির দেউড়ির নাসিমন ভবনে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে থেকে মেয়র শাহাদাত হোসেনের উপস্থিতিতে এ কাজ শুরু হয়। একযোগে নগরীর ৪১ ওয়ার্ড থেকে বর্জ্য আবর্জনাগারে নেওয়া শুরুর পর বিকেলের দিকে কাজির দেউড়ি, আসকার দিঘীর পাড়, জামালখান, চেরাগি পাহাড় এসব এলাকা মোটামুটি পরিচ্ছন্ন দেখা গেছে।
এরপরও কোথাও বর্জ্য পড়ে থাকতে দেখলে নিয়ন্ত্রণ কক্ষে অথবা ওয়ার্ড সুপারভাইজারকে জানানোর পরামর্শ দিলেন মেয়র শাহাদাত হোসেন, ‘আমরা বাগমনিরাম ওয়ার্ড থেকে শুরু করে মোহরা খেজুরতলে আমাদের লাস্ট স্টপেজ পর্যন্ত পরিদর্শন করেছি। ওদিকে আগ্রাবাদ, ইপিজেড এলাকায়ও গিয়েছি। সন্ধ্যা ৭টার মধ্যেই আমরা শহর মোটামুটি ক্লিন পেয়েছি। যদিও আমাদের সময় ছিল রাত ৮টা পর্যন্ত।’
‘নগরবাসীর মধ্যে অনেকের বিকেলে কোরবানি দেওয়ার রীতি আছে। বিকেলের বর্জ্যও দ্রুততার সঙ্গে অপসারণ করা হচ্ছে। অনেকে ঈদের পরদিন কোরবানি দেন। সেই বর্জ্যও দ্রুত সংগ্রহ করে অপসারণের প্রস্তুতি আমাদের আছে।’
তবে সংগ্রহ করা বর্জ্যের ২০ শতাংশের মতো রাত সাড়ে ৮টায়ও আবর্জনাগারে নেওয়া সম্ভব হয়নি বলে জানালেন চসিকের উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্ম্মা, ‘মূল শহর থেকে দূরের ওয়ার্ডগুলোতে আমাদের কিছু বড় বড় ট্রাক, পে-লোডার রয়ে গেছে। বর্জ্য শতভাগ সংগ্রহ করা হয়েছে। কিন্তু আবর্জনাগারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এ পর্যন্ত ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ। ২০ ভাগ মানে দূরের ওয়ার্ডগুলো থেকে গাড়ি এখনও আসেনি।’
তবে শহরের অলিগলি, পাড়া-মহল্লা পুরোপুরি পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে বলে দাবি চসিকের এ কর্মকর্তার।






