চট্টগ্রাম বোর্ডে ফল জালিয়াতি : ১০ বিষয়ে ফেল ছাত্র পেল ৪.৯৪!

সংগৃহীত ছবি
পরীক্ষার উত্তরপত্রে দুই বিষয়ে শূন্য পেলেও প্রকাশিত ফলাফলে এক শিক্ষার্থীকে পাস করানোর অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের বিরুদ্ধে। শুধু ওই দুই বিষয় নয়, শিক্ষার্থীর ১১টি পত্রে সৃজনশীল অংশের নম্বর বাড়িয়ে ফলাফল পরিবর্তন করা হয়। অভিযুক্ত শিক্ষার্থী ও চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কম্পিউটার সেলের তিন কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশ থানায় মামলাটি করেন শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক মোহাম্মদ জহিরুল হক স্বপন।
মামলার আসামিরা হলেন শিক্ষার্থী হাসিবুল আলী শোভন এবং শিক্ষা বোর্ডের কম্পিউটার সেলের কর্মচারী ইমতিয়াজ আহমেদ চৌধুরী, রাশেদুল ইসলাম ও নূর হোসেন রায়হান।
অভিযুক্ত শিক্ষার্থী হাসিবুল আলী শোভন চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় আগ্রাবাদ সরকারি কলোনি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে অংশ নিয়েছিলেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, পরীক্ষার উত্তরপত্রে প্রাপ্ত নম্বরের সঙ্গে প্রকাশিত ফলাফলের নম্বরের ব্যাপক অসংগতি দেখা যায়। ১০ বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ার পরও নম্বর পরিবর্তন করে চূড়ান্ত ফলাফলে তাকে পাস দেখানো হয়। চূড়ান্ত ফলাফলে তাকে জিপিএ ৪.৯৪ দেওয়া হয়।
মামলার এজাহারে বলা হয়, বাংলা প্রথম পত্রে শিক্ষার্থী পেয়েছিলেন ২৩, প্রকাশিত ফলে দেখানো হয়েছে ৩৩। বাংলা দ্বিতীয় পত্রে ২৪-এর পরিবর্তে ৬২, ইংরেজি প্রথম পত্রে ৩৩-এর পরিবর্তে ৮৩ এবং দ্বিতীয় পত্রে ২০-এর পরিবর্তে ৮২ নম্বর দেখানো হয়েছে। এ ছাড়া গণিতে ৯-এর পরিবর্তে ৬৬, ইসলাম শিক্ষায় ৭-এর পরিবর্তে ৬৪, উচ্চতর গণিতে শূন্যের পরিবর্তে ৪৬, পদার্থবিজ্ঞানে শূন্যের পরিবর্তে ৪৫, জীববিজ্ঞানে ১-এর পরিবর্তে ৪৬ এবং বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়ে ৪-এর পরিবর্তে ৬৫ নম্বর দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক মোহাম্মদ জহিরুল হক স্বপন জানান, অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের সময় খাতায় পাওয়া নম্বরের সঙ্গে প্রকাশিত ফলাফলের অমিল ধরা পড়ে। এরপর বিষয়টি নিয়ে অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করে শিক্ষা বোর্ড। তদন্তে শিক্ষার্থীর আরও কয়েকটি বিষয়ে একই ধরনের অনিয়মের তথ্য পাওয়া যায়।
পাবলিক পরীক্ষা আইন, ১৯৮০ অনুযায়ী কলেজে ভর্তির আগেই ওই শিক্ষার্থীর ফলাফল স্থগিত করা হয়েছে। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর মামলা করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। সেই নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতেই পাঁচলাইশ থানায় মামলা করা হয়েছে।
পাঁচলাইশ থানার ওসি মোজাম্মেল হক জানালেন, শিক্ষা বোর্ডের তিন কর্মচারীসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।
গত ১০ আগস্ট সারা দেশে একযোগে এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। পরদিন ১১ আগস্ট থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত মোবাইল ফোনে খুদে বার্তার মাধ্যমে উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করার সুযোগ পান শিক্ষার্থীরা।
এর আগে ২০২৩ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় ছেলের ফল পরিবর্তন করে জিপিএ ৫ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের তৎকালীন সচিব অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র নাথের বিরুদ্ধে। তার ছেলে নক্ষত্র দেব নাথ নগরের একটি বেসরকারি কলেজ থেকে সে বছর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। পরে ছেলের ফলাফল নিয়ে কয়েকজন শিক্ষক প্রশ্ন তোলেন। এ ঘটনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় তদন্ত কমিটি গঠন করে।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ২০২৪ সালের ২৪ অক্টোবর নক্ষত্র দেবের ফলাফল বাতিল করে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড। একই ঘটনায় অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র নাথকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।



