প্রভাবশালীর পাজেরো জিপে ৪০ হাজার ইয়াবা!

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
চট্টগ্রামে একটি পাজেরো গাড়ি তল্লাশি করে ৪০ হাজার ইয়াবাসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে নগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে মামলাও হয়েছে। তবে ডিবির পক্ষ থেকে বিষয়টি প্রকাশ্যে না আনায় একধরনের ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। পুলিশের মধ্যেও এ নিয়ে চলছে আলোচনা।
নানামুখী আলোচনায় তথ্য মিলেছে, পাজেরো গাড়িটির মালিক কক্সবাজারের টেকনাফের প্রভাবশালী এক ‘ইয়াবা গডফাদার’। তিনি সরকারি দলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকায় ইয়াবা উদ্ধারের বিষয়টি যথাসম্ভব গোপন রাখা হয়েছে। গাড়িতে দেড় লাখ ইয়াবা ছিল। কিন্তু প্রভাবশালী মহলের চাপে ৪০ হাজার জব্দ দেখানো হয়েছে এমন আলোচনাও আছে।
অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া নগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক (ডিবি-বন্দর) ফজলুল কাদের চৌধুরী বললেন, ‘গাড়িতে ৪০ হাজার ইয়াবা ছিল। পুরো অভিযানের ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষিত আছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে ভিডিও ফুটেজ জমা দেওয়া হয়েছে। টেকনাফকেন্দ্রিক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের মধ্যে গ্রুপিং আছে। এজন্য নানা ধরনের গুজব ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।’
গতকাল শুক্রবার নগরীর কর্ণফুলী থানার মইজ্যারটেক এলাকায় কালো রঙের পাজেরো গাড়িটিতে তল্লাশি করে ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া দুজন হলেন- গাড়িচালক আব্দুল্লাহ (১৯) ও সঙ্গে থাকা আব্দুল হালিম (৪৮)। উভয়ের বাড়ি টেকনাফে। তাদের বিরুদ্ধে কর্ণফুলী থানায় মামলা করেন ডিবি-বন্দর বিভাগের এসআই অজয় দেব শীল।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ইয়াবাগুলো টেকনাফের নাজিরপাড়া থেকে সংগ্রহ করে চট্টগ্রাম শহরে স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রির জন্য আনা হচ্ছিল। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গাড়িটি থামিয়ে তল্লাশি করা হয়।
আজ শনিবার সকাল পর্যন্ত ইয়াবা উদ্ধারের এ অভিযান নিয়ে সিএমপির পক্ষ থেকে কোনো সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়নি। ডিবির পক্ষ থেকেও কিছু জানানো হয়নি সংবাদকর্মীদের। অথচ ৫০০-১০০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার হলেও বিভিন্নসময় সিএমপির পক্ষ থেকে বিষয়টি ফলাও করে প্রচার করা হয় তাদেরই ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে।
বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পেরে আগামীর সময়ের পক্ষ থেকে নগর গোয়েন্দা পুলিশের বন্দর বিভাগের উপকমিশনার কাজী মোহাম্মদ আব্দুর রহিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এর সত্যতা নিশ্চিত করলেন। বিষয়টি প্রকাশ না করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বললেন, ‘যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। উনারা কেন প্রকাশ করেননি সেটা জানি না।’
পরে উপকমিশনারের নির্দেশে ডিবি পরিদর্শক ফজলুল কাদের চৌধুরী হোয়াটসঅ্যাপে এ সংক্রান্ত মেসেজ পাঠান।
কক্সবাজারের মাদক চোরাচালান নিয়ে খোঁজখবর রাখা বিভিন্ন পর্যায়ের একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যে পাজেরো গাড়ি থেকে ইয়াবাগুলো উদ্ধার হয়েছে সেটির মালিক ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে যুক্ত এক ব্যক্তি। ইয়াবা গডফাদার হিসেবে পরিচিত ব্যক্তির টেকনাফ-কক্সবাজারে ওই গাড়িতেই চলাফেরা করেন। গ্রেপ্তার আব্দুল্লাহকে তার গাড়িচালক হিসেবেই সবাই চেনেন। চট্টগ্রামের প্রভাবশালী লোকজনের সঙ্গেও ওই ব্যক্তির ঘনিষ্ঠতা আছে। টেকনাফের নাজিরপাড়ায় তার বাড়ি।
গ্রেপ্তার দুজনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গোয়েন্দা পরিদর্শক ফজলুল কাদের চৌধুরীর ভাষ্য, ‘ইয়াবাগুলো নাজিরপাড়া থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল। চট্টগ্রাম শহরের বড়পোল ও বহদ্দারহাটে হস্তান্তরের কথা ছিল। গাড়ির কোনো কাগজপত্র পাওয়া যায়নি। এজন্য মালিকও শনাক্ত হয়নি। বিআরটিএর মাধ্যমে মালিকের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে।’
গ্রেপ্তার দুজনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলেও জানালেন এ গোয়েন্দা কর্মকর্তা।




