জাহাজ মেরামত প্রতিষ্ঠান চালাবে বন্দরের সিসিটি

চিটাগাং কন্টেইনার টার্মিনাল
চট্টগ্রাম বন্দরের আরেক গুরুত্বপূর্ণ চিটাগাং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) পরিচালনার কাজ পাচ্ছে জাহাজ মেরামতকারী প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম ড্রাইডক।
কোনো প্রতিযোগিতা ছাড়াই সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি (ডিপিএম) কাজ করবে নৌবাহিনী পরিচালিত সরকারি প্রতিষ্ঠানটি।
এর আগে চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার কাজটিও ডিপিএম পদ্ধতিতে পেয়ে পরিচালনা করছে ড্রাইডক।
নির্মাণের পর থেকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সাইফ পাওয়ারটেক এই সিসিটি পরিচালনা করে আসছিল। তাদের সঙ্গে বন্দরের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে গতকাল ২ নভেম্বর। এর মধ্যে সিসিটি পরিচালনায় চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে চট্টগ্রাম ড্রাইডকের দরকষাকষি চলছে। এই অবস্থায় সাইফ পাওয়ারটেকের পরিচালনার মেয়াদ আরও তিন সপ্তাহ বাড়িয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
চট্টগ্রাম বন্দর মুখপাত্র সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানালেন, তিন সপ্তাহের মধ্যেই অন্তর্বর্তী সময়ের জন্য সিসিটি অপারেটর নিয়োগ হবে। বন্দর থেকে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে লাভজনক নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) দুবাইভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডকে কোনো প্রতিযোগিতা ছাড়াই পরিচালনার ইজারা দিয়েছে সরকার। আগামী বছরের শুরুতে ডিপি ওয়ার্ল্ড এই টার্মিনাল পরিচালনা বুঝে নেবে। ততদিন পর্যন্ত ড্রাইডক পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে। এই টার্মিনাল দিয়ে মোট কনটেইনার ওঠা-নামা ৪৫ শতাংশ হয়।
আর চিটাগাং কনটেইনার টার্মিনাল দিয়ে ওঠা-নামা হয় ১৪ শতাংশ। সেই সিসিটিও সৌদি আরবভিত্তিক রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল (আরএসজিটি) দিয়ে পরিচালনার প্রক্রিয়া এগোচ্ছে সরকার। তার আগ পর্যন্ত দুটি টার্মিনালই চট্টগ্রাম ড্রাইডক পরিচালনা করবে।
চট্টগ্রাম ড্রাইডক মূলত সমুদ্রগামী জাহাজ মেরামতকারী প্রতিষ্ঠান। বন্দর ব্যবস্থাপনা তাদের কাজ নয়, অভিজ্ঞতাও নেই। সাইফ পাওয়ারটেকের সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটির চুক্তির মেয়াদ ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে শেষ হলে কৌশলে চট্টগ্রাম ড্রাইডক সেটি পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে নেয়। সেই থেকে এনসিটি ড্রাইডক পরিচালনা করছে। ডিপি ওয়ার্ল্ড বুঝে নেওয়ার আগ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি এনসিটি পরিচালনায় থাকবে।
এনসিটি পরিচালনায় চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে লিখিত চুক্তি আছে চট্টগ্রাম ড্রাইডকের। অলিখিতভাবে লোকবল, যন্ত্রপাতিসহ বাস্তবে পুরো এনসিটি পরিচালনা করছে সাইফ পাওয়ারটেক। চট্টগ্রাম ড্রাইডক সাইফ পাওয়ারটেকের চেয়ে ৩৫ শতাংশ বেশি মাশুলে এনসিটি পরিচালনা করছে। সিসিটির ক্ষেত্রে একই বাড়তি মাশুলে দেওয়ার দরকষাকষি চলছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের এক বার্থ অপারেটর জানালেন, আন-অফিসিয়ালি পণ্য ওঠা-নামার কাজ করছে সাইফপাওয়ারটেক। মাঝখান দিয়ে কমিশন নিয়ে যাচ্ছে চট্টগ্রাম ড্রাইডক। বন্দর চাইলে নতুন অপারেটর নিয়োগ চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত দেশীয় অপারেটরদের ক্রমভিত্তিক বরাদ্দ দিতে পারত। তাহলে বন্দরের পকেট থেকে বাড়তি খরচ হতো না।



