সঙ্গীত ভবন: সুরের মায়ায় উদযাপন, হীরকজয়ন্তীতে স্মৃতির দীপালি

হীরকজয়ন্তী উৎসব
ছয় দিনের সুরযাত্রা। ছয় দশকের গৌরবগাথা। গান, নৃত্য, আবৃত্তি আর শিল্পের নান্দনিকতায় বর্ণিল হয়ে ওঠা সঙ্গীত ভবনের হীরকজয়ন্তী উৎসবের পরিসমাপ্তি ঘটল আনন্দ ও আবেগের আবেশে। ৬ দশকের সাধনা, সৃজন আর সাংস্কৃতিক অভিযাত্রার স্মৃতিকে সঙ্গী করে উৎসবের প্রতিটি দিন হয়ে ওঠে শিল্পের একেকটি অনুপম ক্যানভাস।
রবীন্দ্রসুরের মায়াবী আবেশে গত ২৬ অক্টোবর পর্দা ওঠে হীরকজয়ন্তী উৎসবের। চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমি ৬ দিনের জন্য হয়ে ওঠেছিল শুধুই সঙ্গীত ভবনের নান্দনিক এক মঞ্চ। নৃত্যের ছন্দময় দোলায় আর শিল্পীদের নিবেদিত পরিবেশনায় মুখর ছিল আয়োজন।
আজ শনিবার ছিল উৎসবের সমাপনী দিন। ভাবগম্ভীর রাগ সংগীতের পাশাপাশি সলিল চৌধুরীর লেখা গণসঙ্গীত প্রত্যয় জাগাল সামনে আগানোর। ওস্তাদ ক্যাপ্টেন আজিজুল ইসলামের বাঁশিতে উঠল বিসর্জনের সুর। সমাপনীতে প্রথমে রাগ ইমন পরিবেশন করেন জয়িতা চৌধুরী ও হৃদিতা চৌধুরী। মিশ্র পাহাড়ী রাগ পরিবেশন করেন শ্রেয়া দাশ। রাগ পুরিয়া ধানেশ্রী পরিবেশন করে শোনান সুহাইরা শাওলি ফালাক।
শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন গজলশিল্পী শাহজাহান খান ও তবলা ওস্তাদ সুদীপ সেনগুপ্ত। সুফি গান পরিবেশন করেন অয়ন্না চক্রবর্তী। মোহনবীণা ও বাঁশি বাজিয়ে শোনান দোলন কানুনগো ও রাসেল দত্ত। তবলায় ছিলেন তিষান ঘোষ। সমাপনী বক্তব্য দেন ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া।
উপমহাদেশের বিখ্যাত সংগীতগুণী সলিল চৌধুরীর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে তার লেখা-সুরে সঙ্গীত ভবনের শিল্পীদের পরিবেশনায় গণসংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে শেষ হয় আয়োজন।
ছয় দিনের এ উৎসবে সবকিছুই ছিল। রবীন্দ্র, নজরুল, অতুলপ্রসাদ থেকে ডিএল রায়, দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর, শচীন দেববর্মন, রজনীকান্ত থেকে ভক্তিমূলক সংগীত, পদাবলী, লোকগান, কীর্ত্তন, আধুনিক থেকে হারানো দিনের গান সবটুকু দিয়েই সাজানো ছিল একেকটি সন্ধ্যা।
১৯৬৬ সালে চট্টগ্রাম শহরে যাত্রা করে সঙ্গীত ভবন। সংগীতশিক্ষা ও শুদ্ধ সংগীতচর্চার প্রসারে কাজ করছে ছয় দশক ধরে। এ প্রতিষ্ঠানে সংগীতের তালিম নিয়েছেন হাজারো শিক্ষার্থী। উৎসবকে কেন্দ্র করে নতুন-পুরনো শিক্ষার্থীদের মিলনমেলায় পরিণত হয় শিল্পকলা প্রাঙ্গণ।
শুধু কী প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা! উৎসব অঙ্গন মুখল হয়ে উঠেছিল দেশের সংস্কৃতিজনদের আনাগোণায়ও। চট্টগ্রামের সঙ্গীত, আবৃত্তি, নৃত্য ও নাট্য সংগঠনগুলোর কর্মীরাও নানা পরিবেশনা নিয়ে উঠেছিলেন মঞ্চে। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে সংস্কৃতির আলো ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয়ে উৎসব রেখে গেল অনির্বাণ প্রেরণা। ছয় দিনের আয়োজন শেষ হলেও সুরের অনুরণন রয়ে গেল হৃদয়ের গভীরে বলছিলেন সংস্কৃতিকর্মীরা।
সঙ্গীত ভবনের অধ্যক্ষ কাবেরি সেনগুপ্তা বললেন, ‘শুধু সংগীত শেখানো নয়। বাংলা গান ও সংস্কৃতির ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়াও আমাদের অন্যতম লক্ষ্য। আধুনিক ও বাণিজ্যিক সংগীতের বিস্তারের এ সময়ে শুদ্ধ সংগীতচর্চার ধারাবাহিকতা ধরে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ। আমরা এ চ্যালেঞ্জ নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে চাই।’



