মেয়রের প্রশ্ন— বাইরে থেকে এসে কেন হস্তক্ষেপ : চট্টগ্রাম মেডিকেলে অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া বাড়ল ৩০ শতাংশ

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগী ও লাশ পরিবহনে নীতিমালা বর্ণিত অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া পুনর্মূল্যায়নপূর্বক যৌক্তিককরণ-সংক্রান্ত বিষয়ে মতবিনিময় সভা করেন সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। ছবি : রনি দে, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, ‘মেডিকেল কলেজে আমাদের রাজনীতির হাতেখড়ি। এখানকার সবকিছু একটা শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে পরিচালনার দায়িত্ব কর্তৃপক্ষ ও ডাক্তারদের। বাইরে থেকে কেউ এসে কেন হস্তক্ষেপ করবে? সমস্যা সমাধানে বাইরের মানুষ কেন আসবে? ডাক্তার কিংবা হাসপাতালকে করতে হবে।’
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-চালক সমিতির মধ্যে হাতাহাতির পর আজ সোমবার অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া পুনর্নির্ধারণ-সংক্রান্ত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সকালে চমেক হাসপাতালের সম্মেলনকক্ষে রোগী ও লাশ পরিবহনের নীতিমালায় বর্ণিত বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া পুনর্মূল্যায়ন-সংক্রান্ত এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল থেকে বিভিন্ন গন্তব্যের নতুন ভাড়ার তালিকা সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেন পড়ে শোনান।
সভাপতিত্ব করেন হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. তসলিম উদ্দীন। অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতি, পুলিশ এবং বিআরটিএর প্রতিনিধিরা সভায় উপস্থিত ছিলেন। নতুন তালিকায় ৩০ শতাংশ ভাড়া বাড়ানো হয়।
সভায় সিটি মেয়র বলেছেন, ‘এক বছর আগে বিভিন্ন গন্তব্যে অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া নির্ধারণ করে একটা তালিকা তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু ছয় মাস পর তা থেকে সরে এসে বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ। বিষয়টি আমাকে কেউ অবগত করেননি।’
মেয়রের ভাষ্য, এখন তেলের দাম বাড়ার কারণে সমিতি এবং সংশ্লিষ্টদের মতামতের ভিত্তিতে নতুন করে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে ৩০ শতাংশ ভাড়া বেড়েছে। সর্বনিম্ন ভাড়া রয়েছে ১ হাজার ১৪৪ টাকা। সর্বোচ্চ ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে লোহাগাড়া উপজেলায় ননএসি বড় অ্যাম্বুলেন্সের ক্ষেত্রে ৫ হাজার ৪০০ টাকা। এসি অ্যাম্বুলেন্সের ক্ষেত্রে ৫ হাজার ৭৮৫ টাকা।
শাহাদাত হোসেন বলেছেন, ‘এই ভাড়া তাদের মেনে চলতে হবে। যদি এর চেয়ে বেশি নেওয়ার অভিযোগ আসে তাহলে আমরা তা মালিক সমিতির কাছ থেকে জরিমানা করব। এ ছাড়া হাসপাতাল ক্যাম্পাস এবং সামনের সড়কে অ্যাম্বুলেন্স রাখা যাবে না। ভ্রাম্যমাণ দোকানও বসানো যাবে না।’
অ্যাম্বুলেন্সের নামে যাতে কোনো মাইক্রোবাস চলতে না পারে সেদিকেও বিআরটিএকে দৃষ্টি দেওয়ার অনুরোধ জানান মেয়র।
অ্যাম্বুলেন্স সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আমান জানালেন, সমিতির বাইরের অ্যাম্বুলেন্স এসে অনেক সময় ভাড়া নিয়ে যায়। এটা বন্ধ করা দরকার।
এ প্রসঙ্গে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তসলিম উদ্দীন বলেন, বাইরে থেকে যেসব অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া নিয়ে আসে তারা যাওয়ার সময় আরেকটা ভাড়া নিয়ে যায়। এটা তাদের বাড়তি আয়। এটা না হলেও সমস্যা নেই।
উল্লেখ্য, রবিবার দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া নিয়ে এনসিপি ও অ্যাম্বুলেন্স মালিক-চালক সমিতির সদস্যদের মধ্যে দুই দফায় হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এনসিপির অভিযোগ তারা বেশি ভাড়া নেয়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পর আজ ভাড়া পুনর্মূল্যায়ন বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো।





