পারিবারিক মসজিদ ছাড়া কোথাও ঈদের নামাজ পড়েন না আমির খসরু

ছবি: আগামীর সময়
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। চট্টগ্রামের উত্তর কাট্টলীর ঐতিহ্যবাহী নাজির বাড়ির সন্তান। বিএনপির নীতিনির্ধারক নেতাদের অন্যতম। বর্তমান সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী। ৭৬ বছর বয়সী আমির খসরু জীবনে কোনো দিন পারিবারিক মসজিদের বাইরে গিয়ে কোথাও ঈদের নামাজ আদায় করেননি। জানালেন, পরিবারের সদস্য, প্রতিবেশীদের নিয়ে পারিবারিক আবহে ঈদের নামাজ আদায় করতেই তিনি বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। ভবিষ্যতেও কখনো পারিবারিক মসজিদের বাইরে বড় কোনো ঈদগাহে যাওয়ার ইচ্ছে তার নেই।
বরাবরের মতো আজ বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকালে নগরীর উত্তর কাট্টলীর দারুস সালাম জামে মসজিদে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেছেন। সঙ্গে ছিলেন ছেলে ইসরাফিল খসরু, আপন ভাই, চাচাতো ভাই, শৈশবের বন্ধুবান্ধব, পাড়া-প্রতিবেশীরা।
চট্টগ্রামে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয় নগরীর জমিয়াতুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ ময়দানে। সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে এখানে জামাতের আয়োজন করা হয়। চট্টগ্রামের মন্ত্রী, এমপি, রাজনীতিক, জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, শিল্পপতিদের অনেকেই এই জামাতে নামাজ আদায় করেন। এখানে ঈদ জামাতে প্রথম কাতারে বসে ‘ভিআইপিদের’ ঈদের নামাজ আদায়ের রীতি অনেক পুরনো। অনেক জনপ্রতিনিধি গ্রাম থেকে এসে এখানে নামাজ আদায় করে আবার ফিরে যান।
স্বাভাবিকভাবেই প্রধান ঈদ জামাত নিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের আগ্রহ ও উপস্থিতিও থাকে সবচেয়ে বেশি। কিন্তু ব্যতিক্রম আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিরোধী দল কিংবা সরকারি দল, যেখানেই তিনি থাকুন না কেন, কখনোই জমিয়াতুল ফালাহমুখী হন না। দুই ঈদে পারতপক্ষে কখনোই চট্টগ্রামের বাইরে তিনি থাকেন না।
সকালে নামাজ আদায় শেষে আগামীর সময়ের কাছে এর কারণ ব্যাখ্যা করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ‘ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা যেটাই হোক, আমার জন্য পরিবারের সঙ্গে সময়টা কাটানো জরুরি। আমি জমিয়াতুল ফালাহতে গিয়ে কি করবো? আমি আমার পরিবারের সঙ্গে ঈদ করবো, এটাই তো গুরুত্বপূর্ণ। ধর্ম বলছে, পরিবারের সঙ্গে থাকুন, পরিবারের সঙ্গে ঈদ করুন। এই যে পারিবারিক একটা বন্ধন তৈরি হচ্ছে এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। আমরা পরিবারের সবাই একসঙ্গে নামাজ পড়ছি, একসঙ্গে কোরবানি করছি। এটাই তো একটা পারিবারিক বন্ধন, আত্মীয়তার বন্ধন। এর জন্য জমিয়াতুল ফালাহ যাওয়ার দরকার নেই।’
‘আমি কোনো দিন এর বাইরে কোথাও পড়িনি, ভবিষ্যতেও আমার আর কোথাও পড়ার ইচ্ছে নেই’— বললেন আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
১৯৪৯ সালে চট্টগ্রামের সম্ভ্রান্ত রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম আমির খসরুর। তার বাবা প্রয়াত মাহমুদুন্নবী চৌধুরী মুসলিম লীগের ডাকসাইটে নেতা ছিলেন। পাকিস্তান আমলে তিনি মন্ত্রী ও আইনপ্রণেতা ছিলেন। বনেদি ব্যবসায়ী ছিলেন। চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্সের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতাও তিনি।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীও একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সভাপতি। ১৯৯১ সালে বিএনপিতে যোগ দিয়ে তিনি বর্তমান চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত তিনি পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ২০০১ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় আমির খসরু অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য। এ ছাড়া চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন।






