চট্টগ্রামে প্রচুর আম, দামও কম

আড়তে সারি সারি আমের ক্যারেট— আগামীর সময়
চট্টগ্রামে মৌসুমি ফলের সবচেয়ে বড় আড়ত ‘ফলমণ্ডি’তে চাহিদার চেয়ে বেশি জোগান আমের। বর্তমানে রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, সাতক্ষীরা, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, রাজশাহী এবং দিনাজপুরসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা রুপালি, হিমসাগর, ল্যাংড়া, ব্যানানা, ডাবল বি, লক্ষণভোগ, বারি-ফোর জাতের আম পাওয়া যাচ্ছে।
বিক্রেতারা বলছেন, ‘বাজারে আম প্রচুর রয়েছে। আমের পাকা রঙও এসেছে। কিন্তু পরিপূর্ণ স্বাদ এখনো আসেনি। আমের পুরো স্বাদ মিলবে সপ্তাহখানেক পরে।’
আড়তদারদের মতে, একযোগে সব অঞ্চলের আম বাজারে আসতে শুরু হয়েছে। পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় দাম গতকালের চেয়ে কম।
ফলমণ্ডির আড়তদার নাসির উদ্দিন মাহমুদ জানালেন, ‘এখন প্রতিদিন ২৫-৩০ ট্রাক আম আসছে। বেশিরভাগ ট্রাক আসছে পার্বত্য এলাকা ও সাতক্ষীরা থেকে। রাজশাহী থেকে পুরোদমে আম আসবে আগামী সপ্তাহে। তখন ট্রাকের সংখ্যাও দ্বিগুণ হয়ে যাবে। একটি ট্রাকে প্রায় ১০ টনের বেশি আম থাকে। প্রচুর ফলন হয়েছে এবার।’
আমের এই ভরা মৌসুম থাকবে আরও ২ মাস। বর্তমানে বাজারে আমের প্রচুর সরবরাহ থাকলেও বাগান মালিক থেকে শুরু করে আড়তদার- সবার চোখে দুশ্চিন্তা। দাম কম হওয়ায় আমের এই মৌসুমেও খরচ তোলা বেশ কষ্ট হয়ে যাবে বলে হতাশা প্রকাশ করেন আড়তদাররা।
ফাতেমা এন্টারপ্রাইজের মালিক নয়ন জানান, বর্তমানে ব্যানানা ম্যাঙ্গো ৮০ টাকা, হিমসাগর ৪৫-৫০ টাকা, রুপালি ৪৫-৫০ টাকা এবং ল্যাংড়া ৪০-৪৫ টাকা, ডাবল বি ৪০ টাকা, বারি-ফোর ৪৫-৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
খুচরা বিক্রেতা রাকিব জানিয়েছেন, তারা আড়ত থেকে আম কেনেন। ক্যারেট হিসেবে এখানে আমের বিক্রি হয়। সাধারণত এক ক্যারেটে ২২ থেকে ২৫ কেজি আম থাকে। এখান থেকে আম কিনে ১৫-২০ টাকা বেশি দরে তারা খুচরা বাজারে ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করেন।
বাজারে দাম কম হওয়ার কারণে বেশি বিপাকে বাগান মালিকরা। খাগড়াছড়ি থেকে আসা বাগান মালিক অলি ব্যাপারী জানান, আমার চারটি বাগানে ১৭০০ গাছ। ৪ দিন আগে ৫ ট্রাক আম নিয়ে এসেছি। উৎপাদন খুব ভালো হয়েছে, কিন্তু খরচ তোলা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। আগে রুপালি আম ৬০-৭০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা ৩৫-৪০ টাকায় নেমে এসেছে।







