মার্কিন নিষেধাজ্ঞার জাহাজ চট্টগ্রামে, ফিরতে লাগবে ২ সপ্তাহ

সংগৃহীত ছবি
মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে আটকে পড়া ‘মেমেই’ ট্যাংকারটি বাংলাদেশ জলসীমা ছাড়তে অন্তত দুই সপ্তাহ সময় লাগবে। কোন দেশে এটি যাবে, তা এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সীতাকুণ্ডের শিপইয়ার্ডে জাহাজটি ভাঙা হচ্ছে না—এটি এখন নিশ্চিত।
জাহাজটি কেনার বিপরীতে এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক থেকে খোলা ঋণপত্র (এলসি) বৃহস্পতিবার বাতিল হয়েছে। এতে জাহাজ ক্রেতা এসএন করপোরেশনের আর্থিক ক্ষতি কতটা হয়েছে, তা জানা যায়নি।
এসএন করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী বারাকাত উল্লাহ জানিয়েছেন, তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এলসি বাতিল করা হয়েছে। ফলে ব্যাংক থেকে ঋণপত্রের বিপরীতে কোনো টাকা ছাড় হয়নি। এতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি থেকে তারা রক্ষা পেয়েছেন। তবে এলসি খোলা, ডকুমেন্টেশন এবং আন্তর্জাতিক ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য যে প্রক্রিয়াকরণ ফি রয়েছে, তা দিতে হবে। সেই টাকার পরিমাণ এখনই বলা যাচ্ছে না।
হংকং-ভিত্তিক এভার শাইনিং লিমিটেড থেকে ২৯ বছরের পুরনো জাহাজ ‘মেমেই’ কিনে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এবং প্রভাবশালী ক্যাশ বায়ার গ্লোবাল মার্কেটিং সিস্টেম (জিএসএম)। বাংলাদেশ, ভারত এবং পাকিস্তানে আসা সিংহভাগ স্ক্র্যাপ জাহাজ এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেই কেনা হয়, যা শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডগুলোতে সরবরাহ করা হয়। সেই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেই জাহাজটি নিজেদের ইয়ার্ডে ভাঙার জন্য কিনেছিল ইস্টার্ন ব্যাংকের চেয়ারম্যান শওকত আলী চৌধুরীর এসএন করপোরেশন। ভাঙার আগেই জাহাজটি মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ে।
জিএসএমের বাংলাদেশ প্রতিনিধি সোলার শিপিং লাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তৌফিক হোসেন বলেছেন, ‘জাহাজটি সব প্রক্রিয়া ও অনুমোদন শেষ করে বাংলাদেশ জলসীমা ছাড়তে অন্তত দুই সপ্তাহ সময় লাগবে। জাহাজটি ফেরত নেবে এভার শাইনিং লিমিটেড। কোথায় নেওয়া হবে বা কী করা হবে, সেটি তাদের সিদ্ধান্ত। তারা শুধু বাংলাদেশ ছাড়তে সহযোগিতা করবেন।’
তার ভাষ্য অনুযায়ী, জাহাজটি কেন ফেরত পাঠানো হচ্ছে এবং এর বিপরীতে বাংলাদেশ থেকে কোনো টাকা ছাড় হয়েছে কি না, তা বাংলাদেশ ব্যাংক নিশ্চিত করবে। এরপর শিল্প মন্ত্রণালয় ও কাস্টমসের অনুমোদন শেষে জাহাজটি পরিচালনা করবেন ক্যাপ্টেন।
কেমিক্যাল ট্যাংকারটি আন্তর্জাতিক বাজার থেকে টনপ্রতি ৫১০ মার্কিন ডলারে কেনে এসএন করপোরেশন। ১৮০ মিটার দীর্ঘ জাহাজটি ভাঙলে পাওয়া যেত প্রায় ৯ হাজার ৭২৮ টন স্ক্র্যাপ। সে হিসাবে জাহাজটির দাম দাঁড়ায় প্রায় ৪৯ লাখ ৬১ হাজার মার্কিন ডলার। ডলারপ্রতি ১২৫ টাকা ধরে বাংলাদেশি মুদ্রায় এর মূল্য প্রায় ৬২ কোটি টাকা। জাহাজ ভেঙে এর দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ দামে লোহা বিক্রি করা যেত বলে প্রতিষ্ঠানটির ধারণা ছিল।
জাহাজটি কেনার পর নিয়ম অনুযায়ী বাংলাদেশে আনার আগে গত ১৭ মে শিল্প মন্ত্রণালয়ে আবেদন করে এসএন করপোরেশন। অনুমোদনের পর ১৮ মে বিদেশি ক্রেতা প্রতিনিধির সঙ্গে চুক্তি হয়। ব্যাংক থেকে এলসি খোলা হয় ২১ মে। এরপর ২৬ মে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছায়।
ঈদুল আজহার ছুটি শেষে জাহাজটি ভাঙার জন্য সীতাকুণ্ড ইয়ার্ডে ভেড়ানোর প্রস্তুতি চলছিল। এরই মধ্যে জানা যায়, জাহাজটি মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় এসেছে।
মার্কিন অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল (OFAC)-এর তথ্য অনুযায়ী, ‘মেমেই’ নামের এই কেমিক্যাল ট্যাংকারটি ২৮ মে মার্কিন কালো তালিকাভুক্ত হয়। বিষয়টি জানার পর বন্দরের বহির্নোঙর থেকে সীতাকুণ্ড ইয়ার্ডে আনার প্রক্রিয়া থেমে যায়। মার্কিন গোয়েন্দাদের দাবি, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে জাহাজটি ইরানি পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য বহন করেছিল।





