শাহাদাতকে ৮ মাসের বেতন-ভাতা ফেরত দিতে বলল এনসিপি

২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। নির্বাচিত পরিষদের প্রথম সভা হয়েছিল ২৩ ফেব্রুয়ারি। স্থানীয় সরকার আইন অনুযায়ী প্রথম সভার তারিখ থেকেই পরিষদের পাঁচ বছর মেয়াদ গণনা করা হয়। এ হিসেবে চলতি বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি পরিষদের মেয়াদ শেষ হয়েছে। কিন্তু আদালতের রায়ে মেয়রের পদে বসা বিএনপি নেতা ডা. শাহাদাত হোসেন আরও আট মাস দায়িত্ব পালন করেছেন। এরপর শাহাদাতকেই আবার চসিকের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার।
এখন শাহাদাত কোন আইনে কোন ক্ষমতাবলে আট মাস মেয়রের দায়িত্ব পালন করলেন তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
দলটির চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সদস্য সচিব আরিফ মঈনুদ্দিন ফেব্রুয়ারির পর মেয়র পদে থেকে গ্রহণ করা বেতন-ভাতা ফেরত দেওয়ার জন্য শাহাদাতের কাছে দাবি জানিয়েছেন।
আজ সোমবার সংবাদ সম্মেলনে এনসিপি নেতা আরিফ মঈনুদ্দিন বললেন, ‘শাহাদাত হোসেনকে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক পদে নিয়োগ দিয়ে জারি করা এ প্রজ্ঞাপনে প্রমাণ হয়েছে এতদিন তিনি যে দায়িত্ব তিনি পালন করেছিলেন সেটা অবৈধ। ফেব্রুয়ারির পর থেকে মেয়র পদে থেকে তিনি যেসব বেতন-ভাতা গ্রহণ করেছেন সেগুলো অবিলম্বে ফেরত দেওয়ার দাবি জানাই।’
‘২০২১ সালের নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন শাহাদাত হোসেন। সে হিসেবে এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে তার মেয়াদ শেষ হয়েছিল। আমরা তাকে গণতান্ত্রিকভাবে বিষয়টি স্মরণ করে দিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি বলেছিলেন আদালতের রায়ে তিনি মেয়র হয়েছেন। ২০২৯ সাল পর্যন্ত তার মেয়াদ থাকবে। কিন্তু দেখা গেছে সরকার প্রজ্ঞাপন দিয়ে তাকে মেয়র থেকে প্রশাসক করেছে। তাহলে সরকার যদি আদালতের নির্দেশ অমান্য করে প্রশাসকের দায়িত্ব দিয়েছে তাহলে আদালত অবমাননা করেছে। সেজন্য সরকারের বিরুদ্ধে মামলা হওয়া উচিত।’
গতকাল রবিবার স্থানীয় সরকার বিভাগ চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়রের দায়িত্ব পালন করে আসা শাহাদাত হোসেনকে প্রশাসকের দায়িত্ব দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে। এর প্রতিবাদে ডাকা সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির আহ্বায়ক মীর মোহাম্মদ শোয়াইব, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জসিম উদ্দিন ওপেল ও সাজ্জাদ হোসেন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক জুবায়ের হোসেনও ছিলেন।
২০২১ সালে অনুষ্ঠিত ‘ত্রুটিপূর্ণ’ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এম রেজাউল করিম চৌধুরী মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০২৪ সালের আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকার অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে রেজাউল করিমসহ অন্যান্য সিটির মেয়রদের অপসারণ করে। এরপর ২০২১ সালের নির্বাচনের ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা মামলার রায়ে ২০২৪ সালের ৩ নভেম্বরে মেয়রের চেয়ারে বসেন ডা. শাহাদাত হোসেন। তার দাবি ছিল, দায়িত্ব গ্রহণের তারিখ অনুযায়ী তার মেয়াদ ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত রয়েছে।
যদিও সিটি করপোরেশন আইনের ৩৪ ধারা অনুযায়ী, কোনো করপোরেশন বিলুপ্ত হলে ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা ছিল। কিন্তু জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন না হওয়ার প্রেক্ষাপটে সেই ভোট অনুষ্ঠিত হয়নি। এ অবস্থায় সরকার সংশোধিত আইনের ২৫-ক ধারা প্রয়োগ করে বিশেষ পরিস্থিতিতে মেয়র শাহাদাত হোসেনকেই চসিকের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিল।



