ইয়ার্ডে এলাকাবাসীর হামলা, আগেই নিরাপত্তার ঘাটতি ছিল

সীতাকুণ্ডে ফেরদৌস স্টিল কারখানায় ভাঙচুর— সংগৃহীত
সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীতে শিপ ইয়ার্ডে দুর্ঘটনার পর উত্তেজিত জনতা ফেরদৌস স্টিল নামের কারখানাটিতে ভাঙচুর চালায়। আজ শুক্রবার দুপুরের দিকে এলাকার লোকজন ফেরদৌস স্টিল ইয়ার্ডের ফটক ভেঙে ঢুকে পড়ে। তারা ভেতরে অফিস কক্ষের কাচ ভাঙচুর করে।
এছাড়া এলাকাবাসী প্রশাসনিক কর্মকর্তা ওবায়দুল্লাহ এবং কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের পরিদর্শক শাহেদ পারভেজকে লাঞ্ছিত করেছে।
ফেরদৌস স্টিলে শুক্রবার সকালের ঘটনায় ৯ জন মারা যায়। এর মধ্যে ৪ জন ভাটিয়ারী এলাকার। দুর্ঘটনায় মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী ইয়ার্ডের দিকে যেতে থাকেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তারা ফটকের সামনে জড়ো হয়। এ সময় গেট বন্ধ ছিল। একপর্যায়ে ফটক ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়েন তারা। এরপর ভাঙচুর চালায়। পরে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সীতাকুণ্ড থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আলমগীর বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘স্থানীয় লোক মারা যাওয়ায় এলাকাবাসীর ক্ষোভ দেখা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ।’
দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যায় চট্টগ্রাম ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের নেতৃবৃন্দ। এ সময় তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং গাফিলতি থাকলে তার শাস্তি দাবি করেন। পাশাপাশি হতাহতদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানান।
ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক তপন দত্ত বলেছেন, ‘দুর্ঘটনা ঘটার পর মালিকপক্ষ ইয়ার্ডে কাউকে ঢুকতে দেয় না। এবার স্থানীয় চারজনের মৃত্যুর পর এলাকাবাসী ইয়ার্ডে ঢুকে পড়ে। তারা ভাঙচুর চালায়।’
ইয়ার্ডের বিরুদ্ধে আগেই মামলা
পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত না করার অভিযোগে গত ১৫ জুলাই সীতাকুণ্ডের ‘ফেরদৌস স্টিলের’ বিরুদ্ধে শ্রম আদালতে মামলা করেছিল কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর ( ডিআইএফই)।
একাধিকবার তাগিদ দেওয়ার পরও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত না করায় এ মামলা করা হয়।
এই কারখানায় আজ শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে ৯ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।ডিআইএফইয়ের এক তাৎক্ষণিক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইয়ার্ডে নোঙর করা এলএনজি পরিবহন করা একটি এমটি রাশি নামের পুরোনো জাহাজের ভেতরে স্ক্র্যাপ কাটিংয়ের কাজ করছিলেন শ্রমিকরা। কাজ চলাকালে হঠাৎ জাহাজের ভেতরে গ্যাস লিকেজ হয়ে অতিরিক্ত কার্বন মনোক্সাইড ছড়িয়ে পড়ে।
পরিদর্শক শাহেদ পারভেজ তালুকদার বাদী হয়ে মামলাটি করেন বলে জানান কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শক মাহবুবুল হাসান।
এদিকে শিপইয়ার্ডে শ্রমিকের মৃত্যুর দায় মালিকপক্ষ ও সরকারকে নিতে হবে বলে বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), চট্টগ্রাম জেলা শাখা। একই সঙ্গে শিপইয়ার্ডে একের পর এক দুর্ঘটনায় শ্রমিকের মৃত্যুতে মালিকপক্ষ ও সরকারের গাফিলতির তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সংগঠনটি।
শুক্রবার সিপিবি চট্টগ্রাম জেলা শাখার সভাপতি কমরেড অশোক সাহা, সাধারণ সম্পাদক কমরেড মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর প্রমুখ এক যৌথ বিবৃতিতে হতাহতদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ ও বিচারের দাবি জানান।







