বিদ্যুৎকেন্দ্রের ঠিকাদার ‘আওয়ামী দোসর’, ব্যবসার ৫০% চান ‘যুবদল নেতা’

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
চট্টগ্রামে একটি বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের মালিক-প্রকৌশলীসহ কয়েকজনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।
ঠিকাদারের অভিযোগ, যুবদল নেতা পরিচয়ে আলী হোসেন নামে এক ব্যক্তি তাদের কাছ থেকে ব্যবসার আয়ের ৫০ শতাংশ চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। রাজি না হওয়ায় ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ আখ্যা দিয়ে তাদের ওপর হামলা করেন আলী হোসেন ও তার অনুসারীরা।
আজ বুধবার সকালে নগরের কর্ণফুলী থানার গহিরা এলাকায় প্রথমে প্রকৌশলীকে মারধর করা হয়। খবর পেয়ে ঠিকাদার পুলিশ নিয়ে সেখানে যান। তখন পুলিশের সামনেই তাদের ওপর আরেকদফা হামলার ঘটনা ঘটে বলে ঠিকাদারের অভিযোগ।
পুলিশ বলছে, ঠিকাদারকে ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ আখ্যা দিয়ে কাজে বাধা দেওয়া ও হামলার তথ্যপ্রমাণ তারা পেয়েছে। তবে ব্যবসার আয়ের ৫০ শতাংশ চাঁদা দাবির সত্যতা পুরোপুরি মেলেনি।
আনোয়ারা উপজেলার গহিরা সাগর উপকূলে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজ করছে ইউনাইডেট চট্টগ্রাম পাওয়ার লিমিটেড (ইউসিপিএল)। এতে শ্রমিক সরবরাহ করছে মেসার্স এফ এম এন্টারপ্রাইজ নামে একটি প্রতিষ্ঠান।
প্রতিষ্ঠানের মালিক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন আগামীর সময়কে জানালেন, আলী হোসেন কর্ণফুলী উপজেলার কার-মাইক্রোবাস চালক সমিতির নেতা। নিজেকে যুবদল নেতা এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন।
‘বেশ কয়েকদিন ধরে কখনও আমাদের অফিসে এসে, কখনও সাইট অফিসে গিয়ে আলী হোসেন ও তার লোকজন চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। আলী হোসেন তার সঙ্গে ৩০-৪০ জন ছেলে আছে বলে জানান। ব্যবসা করতে হলে খরচ বাবদ ফিফটি পারসেন্ট দিতে হবে বলেন। আমরা বলেছি- চাঁদা দিয়ে আমরা ব্যবসা করব না। প্রয়োজনে কাজ ছেড়ে দেব। তোমরা কাজ কর। কিন্তু তারা বারবার আমাদের আওয়ামী লীগের দোসর, স্বৈরাচারের দোসর এসব বলে চাপ দিয়ে আসছিল।’
দেলোয়ার হোসেনের ভাষ্য, ‘গত সপ্তাহেও সাইটে গিয়ে আমাদের একজন স্টাফকে চড়-থাপ্পড় দিয়েছেন আলী হোসেন। আজ সকালে আবার লোকজন নিয়ে গিয়ে আমাদের ইঞ্জিনিয়ার শাহরিয়ার আমিরকে মারধর শুরু করেন। এলাকার লোকজন এগিয়ে এসে রক্ষা করেন। এরপর আমরা থানায় অভিযোগ করে পুলিশসহ ঘটনাস্থলে যাই। আলী হোসেন ও তার লোকজন তখন পুলিশের সামনেই আমাদের ওপর আবার হামলা করেন।’
আগামীর সময়ের হাতে আসা এ সংক্রান্ত একটি অডিও রেকর্ডে আলী হোসেনকে ঠিকাদার দেলোয়ারকে বলতে শোনা গেছে, ‘আমার কথা হচ্ছে তোমরা আওয়ামী লীগ। আমরা আওয়ামী লীগকে কোনো কাজ এখানে করতে দেব না।’ দেলোয়ার বলেন, ‘আমি আওয়ামী লীগ এটা তুমি প্রমাণ কর। আর তোমার কাজ করতে ইচ্ছা হলে তুমি কর। তুমি কর্তৃপক্ষকে বলে কাজ নিয়ে যাও। ফিফটি পারসেন্ট চাঁদা দিয়ে আমি ব্যবসা করব না।’ আলী হোসেন রেগে বলেন, ‘তুমি চাঁদার কথা বলছ কেন ? কীসের চাঁদা! আমি তো চাঁদার খেলা খেলি না।’
কর্ণফুলী থানার ওসি মোহাম্মদ ইখতিয়ার উদ্দিন আগামীর সময়কে বললেন, ‘কয়েকটা অডিও, ভিডিও রেকর্ড পেয়েছি। ঘটনাস্থলে গিয়েও তদন্ত করেছি। ব্যবসার ফিফটি পারসেন্ট চাঁদা হিসেবে দাবির অভিযোগ তদন্ত করে দেখছি। তবে রেকর্ডে শোনা গেছে, আলী হোসেন পার্টনারশীপের ভিত্তিতে ব্যবসা করতে চেয়েছেন। হামলার বিষয়ে মামলা নেওয়া হচ্ছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’
আলী হোসেন যুবদল নেতা পরিচয় দিলেও তার কোনো পদ-পদবি সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানালেন ওসি। আলী হোসেনের বক্তব্য জানাও সম্ভব হয়নি।





