যুবদল নেতা মাসুদুল ‘কিলিং মিশনের’ সদস্য আইয়ূব গ্রেপ্তার

ছবি: আগামীর সময়
চট্টগ্রামের রাউজানে যুবদল নেতা মাসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলার অন্যতম আসামি আইয়ূবকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
আজ রবিবার ভোরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার খেদারমারা ইউনিয়নের দুরছড়ি গ্রামের এক বাড়ি থেকে।
গ্রেপ্তার ৪৫ বছর বয়সী মোহাম্মদ আইয়ূব রাউজান উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের শমসের পাড়া গ্রামের বাসিন্দা।মাসুদুল হত্যা মামলার এজাহারের ৯ নম্বরে তার নাম উল্লেখ আছে।
আগামীর সময়কে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন র্যাবের চট্টগ্রাম জোনের অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্নেল মোহাম্মদ হাফিজুর রহমানের।
তিনি জানান, গ্রেপ্তার আইয়ূব মাসুদুল কিলিং স্কোয়াডের অন্যতম সদস্য। ঘটনার সময় ব্যাকআপ টিমের সদস্য তিনি হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়েছিলেন।
হত্যাকাণ্ডের পর আইয়ূব দুর্গম পাহাড়ে আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানালেন র্যাব কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান।
তিনি বললেন, ‘বাঘাইছড়ি থেকে লংগদু হয়ে সাড়ে তিন ঘণ্টা লাগে দুরছড়ি যেতে। সেখানে এক বাঙালি পাড়ায় গিয়ে নিকটাত্মীয়ের বাসায় অবস্থান করছিল আইয়ূব। সোর্সের তথ্যের ভিত্তিতে আমাদের টিম গতকাল শনিবার বিকালে অভিযান শুরু করে। আজ ভোর ৫টায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।’
গত ১৩ জুন দুপুরে চট্টগ্রাম উত্তরের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী রাউজানের পাহাড়তলী ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজারে মাসুদুলকে (৪৫) গুলি করে হত্যা করা হয়। তিনি রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হুম্মাম কাদের চৌধুরীর অনুসারী ছিলেন তিনি। তার বাড়ি রাঙ্গুনিয়ার বেতাগী ইউনিয়নে। মামলার বাদী পেয়ারুল ওই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান।
মাসুদুলকে প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া দিয়ে হত্যার ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। পুলিশ ফুটেজ দেখে পাঁচ অস্ত্রধারীকে শনাক্ত করে।
তবে ভিডিও ফুটেজে দৃশ্যমান অস্ত্রধারীদের মধ্যে আইয়ূব ছিলেন না বলে জানালেন র্যাব কর্মকর্তা হাফিজুর। তিনি বলেছেন ‘যে পাঁচজন অস্ত্রধারীর ছবি ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, তারা কিলিং মিশনের মূল টিম। তাদের সঙ্গে আরেকটি অটোরিকশায় একটু দূরে একটি ব্যাকআপ টিম ছিল। সেই টিমের সদস্য ছিল আইয়ূব। দূরে অবস্থানের কারণে সেই টিমের কারও ছবি ভিডিওতে আসেনি।’
এ ঘটনায় ১৫ জুন মামলা করেন নিহত মাসুদুলের বড় ভাই পেয়ারুল হক চৌধুরী স্বপন। মামলায় চট্টগ্রাম দাপিয়ে বেড়ানো দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী রায়হান আলমকে প্রধান করে মোট ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জনকে আসামি করা হয়।
র্যাবের ভাষ্য, গ্রেপ্তার আইয়ূব সন্ত্রাসী রায়হান আলম গ্রুপের সক্রিয় সদস্য। এছাড়া রায়হানসহ আসামিরা সবাই বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
আসামিদের মধ্যে আইয়ূবসহ মোট তিনজন গ্রেপ্তার হলো। এর মধ্যে দুজনকে র্যাব ও একজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।




