৯ শ্রমিকের মৃত্যু : ইয়ার্ড মালিক ও তিন সচিবকে বেলার আইনি নোটিশ

সীতাকুণ্ডে ফেরদৌস স্টিল শিপব্রেকিং ইয়ার্ড— সংগৃহীত
সীতাকুণ্ডের ফেরদৌস স্টিল শিপব্রেকিং ইয়ার্ডের কার্যক্রম বন্ধ করে সকল ছাড়পত্র, অনাপত্তিপত্র ও লাইসেন্স বাতিলের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)। সেই সঙ্গে ইয়ার্ডের মালিক ও প্রধান কর্মকর্তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে পাসপোর্ট জব্দ করার দাবিও করা হয়।
আজ রবিবার প্রতিকার চেয়ে আইনি নোটিশের (নোটিশ অব ডিমান্ড ফর জাস্টিস) মাধ্যমে এই দাবি জানানো হয়। শিল্প সচিব, পরিবেশ সচিব, শ্রম সচিব, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ ১২জনকে এই নোটিশ দেওয়া হয়। ১২ নম্বর পক্ষভুক্ত করা হয় ইয়ার্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফেরদৌস ওয়াহিদকে। নোটিশে আদালতের আদেশ অবমাননার অভিযোগও আনা হয়।
নোটিশ প্রেরণের তিন দিনের মধ্যে আগামী ১৯ আগস্ট সকাল ১০টার মধ্যে এসব বিষয়ে পক্ষগুলোর গৃহীত পদক্ষেপ বেলাকে অবহিত করার অনুরোধ জানানো হয়। নোটিশে স্বাক্ষর করেছেন বেলার প্রধান সমন্বয়কারী ও সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী তাসলিমা ইসলাম।
নোটিশ বলা হয়, ‘অতিমাত্রায় ঝুঁকিপূর্ণ জাহাজভাঙ্গা কার্যক্রমের অব্যাহত দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেলা উচ্চ আদালতে বেশ কয়েকটি জনস্বার্থমূলক মামলা দায়ের করেছে যা চলমান মামলা হিসেবে মহামান্য আদালতে বিবেচিত রয়েছে। আদালত এ সকল মামলার রায় ও আদেশের মাধ্যমে জাহাজ কাটার আগে গ্যাস-ফ্রি সার্টিফিকেশন নিশ্চিত করতে এবং কালো বা ছাই তালিকাভুক্ত দেশ থেকে জাহাজ আমদানি নিয়ন্ত্রণ করতে নির্দেশ প্রদান করেছেন। একইসঙ্গে আদালত পরিবেশ সুরক্ষা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও শ্রমিকদের যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রদান করেন।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়, ‘আদালতের সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও ১৪ আগস্ট ১২নম্বর নোটিশ গ্রহীতার জাহাজভাঙা ইয়ার্ডে কালো তালিকাভুক্ত `RASI' নামক এলএনজি ট্যাংকার ভাঙার সময়ে গ্যাস লিকেজে অন্তত ৯ জন শ্রমিকের মৃত্যু ঘটেছে। বিভিন্ন সময় প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী নিহত ও আহত শ্রমিকদের অধিকাংশই ঝুঁকিপূর্ণ এ কাজে সম্পূর্ণ নতুন এবং কোনোরূপ সুরক্ষা সামগ্রী পরিধান ছাড়াই কর্মরত ছিলেন।
নোটিশে বলা হয়, শ্রমিক স্বার্থ রক্ষায় ও জাহাজভাঙা কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে তাই নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে বোর্ড পুনর্গঠনের বিকল্প নেই।
নোটিশেবলা হয়, সরকার শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও পরিবেশের স্বার্থের চেয়ে কতিপয় জাহাজভাঙ্গা মালিকদের ব্যবসায়িক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং এ উদ্দেশ্যে আদালতের উপর্যুপরি আদেশ, নির্দেশ ও রায় লঙ্ঘন করছে যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও কালো তালিকাভুক্ত দেশ থেকে জাহাজ আমদানি করা আমদানিকারককে আইনের আওতায় না আনা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ও কর্মকর্তাদের চরম উদাসীনতার পরিচায়ক বলে উল্লেখ করা হয়।
নোটিশে ঘটনা তদন্তে একটি নিরপেক্ষ কমিটি গঠনের তাগিদ দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, যথাযথ নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে হলে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বাইরে একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত তদন্তকারী সংস্থার মাধ্যমে তদন্ত পরিচালনা করা সময়ের দাবি। বিশেষজ্ঞ কমিটির মাধ্যমে জানুয়ারি ২০১০ থেকে আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত ওই ইয়ার্ডে কর্মরত অবস্থায় শ্রমিক হতাহতের বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন প্রকাশের দাবি জানায় বেলা।
নোটিশের অপর পক্ষগুলো হলেন, যথাক্রমে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক, বিস্ফোরক পরিদপ্তরের প্রধান বিস্ফোরক পরিদর্শক, শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক, চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার, পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক, বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও ফেরদৌস স্টিলের স্বত্বাধিকারী ফেরদৌস ওয়াহিদ।
উল্লেখ্য, ১৪ আগস্ট ফেরদৌস স্টিলে গ্যাস লিকেজ হয়ে ৯ শ্রমিক নিহত এবং আরও ১০ জন আহত হয়েছেন।







