ঠিকাদারের টাকায় চসিক কর্মকর্তাদের সুইডেন সফর বাতিল

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
সংবাদ প্রকাশের পর ঠিকাদারের টাকায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পাঁচ কর্মকর্তার সুইডেন সফর বাতিল করা হয়েছে।
রোড রোলার পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রশিক্ষণের নামে এই ভ্রমণ নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে স্থানীয় সরকার বিভাগ ভ্রমণটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়।
আজ রবিবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম সচিব (সিটি করপোরেশন-১) মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম।
তিনি বলেছেন, ‘ভ্রমণটি বাতিল করা হয়েছে। এ–সংক্রান্ত ফাইল অনুমোদনের জন্য মন্ত্রী মহোদয়ের দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।’
গত ২২ জুলাই ‘রোড রোলার চালানো শিখতে ঠিকাদারের টাকায় সুইডেন যাচ্ছেন চসিকের কর্মকর্তারা!’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের টাকায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পাঁচ কর্মকর্তা ২৫ জুলাই থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত সুইডেনে যাওয়ার অনুমোদন পান।
মন্ত্রণালয়ের ৬ জুলাই জারি করা আদেশ অনুযায়ী, সফরে যাওয়ার কথা ছিল স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর একান্ত সচিব মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সচিব আশরাফুল আমিন, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জসীম উদ্দিন, নির্বাহী প্রকৌশলী আশিকুল ইসলাম এবং নির্বাহী প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মুহাম্মদ ইমরান হোছাইন খোকার।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের জন্য পাঁচটি ডাবল ড্রাম রোড রোলার সরবরাহ করে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স সরকার কবির আহমেদ। গত ১১ মার্চ রোলারগুলো করপোরেশনের স্টকে যুক্ত হয়। তবে সরবরাহের চার মাস পর কর্মকর্তাদের বিদেশে প্রশিক্ষণে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
চুক্তিপত্র অনুযায়ী, রোলার সরবরাহের সাত দিনের মধ্যে চট্টগ্রামেই একজন উপসহকারী প্রকৌশলী এবং প্রতিটি রোলারের একজন চালককে এক দিনের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা ছিল। এ জন্য ১৩ লাখ ১৫ হাজার টাকা ব্যয়ও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের বহনের কথা উল্লেখ রয়েছে। সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের টাকায় সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর নীতিগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ এবং প্রচলিত আইন অনুযায়ী এটি স্বার্থের সংঘাত সৃষ্টি করতে পারে।
এর আগে মশা নিয়ন্ত্রণ শিখতে ঠিকাদারের টাকায় সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিল করেছিল প্রধানমন্ত্রী।





