২৩ বছরের পুরনো রাসায়নিক সরছে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে

চট্টগ্রাম বন্দর থেকে বিপদজনক রাসায়নিক পদার্থ সরানো হচ্ছে
চট্টগ্রাম বন্দর সংরক্ষিত এলাকার ভেতর দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে পড়ে থাকা ১৫০ টন বিপদজনক রাসায়নিক পদার্থ পরিবেশসম্মত উপায়ে ধ্বংস করার কাজ শুরু হয়েছে।
আজ শনিবার সকালে কেমিক্যাল ধ্বংস কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে বন্দর থেকে ৯টি কনটেইনার ভর্তি এসব বিপদজনক রাসায়নিক বিশেষ নিরাপত্তাবেষ্টনীতে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার ‘ওয়াটা কেমিক্যালস লিমিটেড’ এর উদ্দেশে রওনা হয়। প্রথম চালানে ১০৬ টন রাসায়নিক আছে। বাকি রাসায়নিক ধাপে ধাপে সেখানে নেওয়া হবে।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার রাসেল আহমেদ জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম বন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কনটেইনার জট কমানোর লক্ষ্যে এসব মেয়াদোত্তীর্ণ ও ব্যবহারের অনুপযোগী অ্যাসিডজাতীয় পণ্য ধ্বংসের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বন্দর সূত্র জানায়, ২০০৩ সাল থেকে এসব রাসায়নিক বন্দরের শেডে পড়ে থেকে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা তৈরি করেছিল। চালানগুলোর মধ্যে রয়েছে ২৫ টন সালফিউরিক এসিড, ৫০০ কেজি নাইট্রিক এসিড, ৯২ টন মিথানল এবং ৩২ টন থিনার।
কেমিক্যাল ধ্বংস কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশ জাতীয় কর্তৃপক্ষ, রাসায়নিক অস্ত্র কনভেনশনের সুপারিশ ও কাস্টম হাউসের তত্ত্বাবধানে সরকারি সিদ্ধান্তে এই বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জের ওয়াটা কেমিক্যালস লিমিটেডের কারখানায় নিয়ম মেনে পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে এসব কেমিক্যাল ধ্বংস করা হবে।
এর আগেও বন্দরে পড়ে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ রাসায়নিক ও বর্জ্য সরাতে উদ্যোগ নেয় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। ২০২১ সালে ‘পি’ শেডে ২০ বছর ধরে পড়ে থাকা ২৫ টন বিপদজনক রাসায়নিক সুনামগঞ্জের ছাতকে অবস্থিত লাফার্জহোলসিম সিমেন্ট কারখানায় নিয়ে ধ্বংস করা হয়েছিল।
গত ২৪ আগস্ট চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ৩৪ কনটেইনারে ৯৩৫ টন নষ্ট খেজুর এবং ৪০ কনটেইনারে ১ হাজার ২ টন মেয়াদোত্তীর্ণ সোডা অ্যাশসহ মোট ১২৬ কনটেইনার বর্জ্য ধ্বংস করেছিল কাস্টম হাউস।



