মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতাল
অভিযোগের সত্যতা ও নোটিস ছাড়াই ফিজিওথেরাপিস্টকে বরখাস্ত

সংগৃহীত ছবি
তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ার পরও কোনো কারণ দর্শানোর নোটিস ছাড়া মা-শিশু জেনারেল হাসপাতালের এক ফিজিওথেরাপিস্টকে চাকরি থেকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
গত ১৭ অক্টোবর কার্যনির্বাহী কমিটির ৫৪২তম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শাকিল চৌধুরী নামে ফিজিওথেরাপিস্টকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
শাকিল হাসপাতালটির শিশু বিকাশ কেন্দ্রের ফিজিওথেরাপিস্ট। একই বিভাগের সহকারী ফিজিওথেরাপিস্ট মো. ইসমে আজিমের ২২ আগস্টের একটি অভিযোগের ভিত্তিতে শাকিলের বিরুদ্ধে এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
অভিযোগে বলা হয়, ‘হাসপাতালের টিকিট ছাড়া আর্থিক সুবিধা নিয়ে এক রোগীকে ফিজিওথেরাপি দিয়েছেন শাকিল’। অথচ এ অভিযোগের জন্য গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে তার কোনো সত্যতা মিলেনি।
অভিযোগ তদন্তে হাসপাতালের পরিচালক (মেডিকেল অ্যাফেয়ার্স) ডা. এ কে এম আশরাফুল করিমকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন পরিচালক (ফিন্যান্স) মোহাম্মদ রফিকুল আলম ও শিশুস্বাস্থ্য বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ধনঞ্জয় দাশ।
কমিটি অভিযুক্ত শাকিল চৌধুরী, অভিযোগকারী আসিফ, সংশ্লিষ্ট রোগীর অভিভাবক এবং হাসপাতালটির সঙ্গে যুক্ত বেসরকারি স্বেচ্ছসেবী ও উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান এসএআরপিডি (সোশ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন ফর দি ফিজিক্যালি ভালনারেবল)-এর ইনচার্জ মো. সাকিবের সঙ্গে কথা বলেছেন। গত ১৬ সেপ্টেম্বর তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘কমিটি সদস্য মোহাম্মদ রফিকুল আলম রোগীর অভিভাবকদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। রোগীর অভিভাবক এসএআরপিডির ইনচার্জ মো. সাকিব তাকে বলেছেন, তার অনুরোধে শাকিল চৌধুরী দুদিন রোগীকে থেরাপি দিয়েছেন। তবে এর বিনিময়ে শাকিল চৌধুরীকে কোনো টাকা দেননি বলে সাকিব জানান।’
তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, হাসপাতালের নির্ধারিত টিকিট ছাড়া শাকিল চৌধুরী রোগী দেখেছেন এবং রোগীকে ফিজিওথেরাপি প্রদান করেন যা গ্রহণযোগ্য নয়। এ জন্য হাসপাতালের প্রচলিত বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।
কিন্তু আর্থিক সুবিধা নেওয়ার বিষয় প্রমাণিত না হওয়ার পরও শাকিলকে বরখাস্ত করার মতো সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিটি। ১৮ অক্টোবর হাসপাতালের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. মহিউদ্দিন স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে শাকিলকে বরখাস্তের কথা জানানো হয়।
জানতে চাইলে পরিচালক মো. মহিউদ্দিন জানান, ‘এটা হাসপাতালের পরিচালনা কমিটির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী করা হয়েছে। বরখাস্তের বিষয়ে আমি বেশি কিছু জানি না। আমার কোনো হাত নেই।’
অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ার পরও বিনা নোটিসে কীভাবে বরখাস্ত হয় এমন প্রশ্নে মহিউদ্দিন বলেন, ‘এটা ইসি কমিটিকে জিজ্ঞেস করেন। তাদের মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমি প্রশাসনিক কাজ করেছি মাত্র।’
এ ব্যাপারে পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম আজাদকে ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
তদন্ত কমিটির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করে বলেছেন, শাকিল টিকিট ছাড়া রোগী দেখেছেন এসএআরপিডির ইনচার্জের অনুরোধে। এসএআরপিডি হাসপাতালের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে, সহযোগী সংগঠন। টিকিট ছাড়া একটি রোগী দেখা এত বড় অপরাধ নয় যে, চাকরি থেকে বরখাস্ত করতে হবে।
অভিযুক্ত শাকিল চৌধুরী বলেছেন, ‘এসএআরপিডি দীর্ঘদিন ধরে এখানে কাজ করছে। তাদের ইনচার্জ সাকিব ৫ বছরের একটি বাচ্চা (ওয়াসিফ শাহরিয়ার) নিয়ে আসেন দ্রুত চিকিৎসা দেওয়ার জন্য। ইনচার্জের অনুরোধে আমি রোগীটিকে দুদিন ফিজিওথেরাপি দিয়েছি। ওখানে কোনো টাকার লেনদেন ছিল না। তদন্ত কমিটিও প্রতিবেদনে আর্থিক সংশ্লিষ্টতা পায়নি। এটা আমার বিরুদ্ধে একটা ষড়যন্ত্রমূলক অভিযোগ ছিল। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ার পরও আমাকে কোনো নোটিস না দিয়ে বরখাস্ত করা হয়েছে। আমি বিষয়টি পুনর্বিচেনর জন্য আইনি প্রক্রিয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছি।’
২০১৮ এসএআরপিডির সঙ্গে মা ও শিশু হাসপাতাল যৌথভাবে শিশু বিকাশকেন্দ্রে কাজ করে চলেছে। বিভিন্ন সময় জরুরি রোগীর ক্ষেত্রে টিকিট ছাড়া তাড়াতাড়ি রোগী দেখার অনুরোধ তাদের দিক থেকে থাকে বলে জানা গেছে।



