গরুর হাট বসেছে, ক্রেতা নেই

ছবি: আগামীর সময়
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম নগরীতে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে কোরবানির পশুর হাটের কার্যক্রম। মঙ্গলবার থেকে নগরীর চান্দগাঁও থানার নূর নগর হাউজিং এস্টেট এলাকায় অবস্থিত ‘কর্ণফুলী পশুর হাটে’ বেপারিদের আনাগোনা ও প্রস্তুতি চোখে পড়েছে।
দুপুর দেড়টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ২৫টি গরু নিয়ে একটি ট্রাক হাটে পৌঁছায়। বেপারি বাবুল ও তার সহযোগীরা একে একে গরুগুলো নামিয়ে নির্ধারিত স্থানে বাঁধেন।
বাবুল জানান, হাট কর্তৃপক্ষ তাদের এলাকায় গিয়ে সুযোগ-সুবিধার কথা জানিয়ে এ হাটে গরু তোলার অনুরোধ করেছিলেন। সেই কারণেই তারা গরু নিয়ে এসেছেন।
হাটজুড়ে বাঁশ ও সামিয়ানা টাঙানোর কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, মেহেরপুর, রাজশাহী, কুষ্টিয়া, পাবনা, ঝিনাইদহ ও ফরিদপুরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বেপারিরা গরু নিয়ে আসছেন। তবে প্রথম দিন হওয়ায় পশুর সংখ্যা তুলনামূলক কম। হাটে এসেছে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০টি গরু।
হাটের ইজারাদার সদস্য মোহাম্মদ রফিক উল্লেখ করেন, হাটে ১৫ হাজারের বেশি গরু রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। বেপারিদের জন্য নিরাপদ সামিয়ানা, পর্যাপ্ত পানি ও থাকার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। শৃঙ্খলা রক্ষায় ১০০ থেকে ১৫০ জন স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করবেন। হাসিল নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ থেকে ৬ শতাংশ।
হাটে সবচেয়ে বড় গরু এনেছেন কুষ্টিয়ার বেপারি মোহাম্মদ মাসুদ। ১৯ বছর ধরে তিনি চট্টগ্রামের পশুর হাটে গরু বিক্রি করছেন। এবার তিনি ১৫টি গরু এনেছেন, যার মধ্যে তিনটি বড় আকারের। সবচেয়ে বড় গরুটির দাম হাঁকছেন ৭ লাখ টাকা। তার কাছে এক লাখ টাকার নিচে কোনো গরু নেই।
কুষ্টিয়ার আরেক বিক্রেতা গকুল জানান, গরু লালন-পালন ও খাবারের খরচ বেড়ে যাওয়ায় এবার দাম গত বছরের তুলনায় কিছুটা বেশি হতে পারে।
প্রথম দিনেই বাজার পরিস্থিতি ও পশুর দাম দেখতে হাটে ভিড় করেছেন আশপাশের অনেক কিশোর-তরুণ। কলেজ ছুটি হওয়ায় পাশের বাকলিয়া কলেজের শিক্ষার্থী মেহরাজ, তামিম, শালবিনা ও ইফরিত হাটে এসেছেন। তারা জানান, মূলত দামের ধারণা নিতেই এসেছেন। পছন্দ হলে পরে পরিবারকে জানাবেন।
হাটের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা চান্দগাঁও থানার এসআই নজরুল জানান, মঙ্গলবার থেকেই হাটে পুলিশের ডিউটি শুরু হয়েছে। কন্ট্রোল রুম, পিকেট টিম ও ওয়াচ টাওয়ারে পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। বড় অঙ্কের টাকা বহনে প্রয়োজনে ‘পুলিশ স্কট’ সুবিধাও দেওয়া হবে। তবে প্রথম দিনে ব্যাংকিং বুথ ও জাল টাকা শনাক্তকরণ বুথ এখনো চালু হয়নি।
চট্টগ্রাম মহানগরে সাগরিকা ও বিবিরহাটে স্থায়ী গরুর বাজার এবং পোস্তারপাড়ে ছাগলের বাজার রয়েছে। এ ছাড়া এবার নগরীতে ছয়টি অস্থায়ী পশুর হাটের অনুমোদন দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত নূর নগর হাউজিং এস্টেটের ‘কর্ণফুলী পশুর হাট’ ইজারা দেওয়া হয়েছে।




