চট্টগ্রাম
দরপত্র ছাড়াই ৫ পশুর হাট ইজারা পেলেন বিএনপি নেতারা

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচটি অস্থায়ী কোরবানির পশুর হাট কোনো দরপত্র (টেন্ডার) ছাড়াই বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাদের বরাদ্দ দিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)।
দলীয় নেতাদের এভাবে হাট ‘ভাগ-বাঁটোয়ারা’ করে দেওয়ায় গত বছরের তুলনায় ৮০ লাখ টাকা রাজস্ব কম আয় হয়েছে সিটি করপোরেশনের।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, ‘হাট সিটি করপোরেশন ইজারা দিলেও যেখানে হাট বসে সেটি ব্যক্তি মালিকানাধীন জায়গা। ব্যক্তির জায়গায় সিটি করপোরেশন হাট বসাতে পারে না। যেসব জায়গায় সিটি করপোরেশন অনুমতি পায় সেগুলো ইজারা ডাকা হয়। আর যেখানে সিটি করপোরেশন অনুমতি পায় না সেখানে যারা জায়গার অনুমতি নিয়ে আসেন তাদের হাট বরাদ্দ দেওয়া হয়।’
সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, এবার নগরীতে আটটি হাট বসানোর অনুমোদন দেয় জেলা প্রশাসন। এরমধ্যে তিনটি হাটের দরপত্র দেওয়া হয়। দুটি হাটে দরপত্র জমা পড়ে। একটি হাটে কোনো দরপত্র জমা পড়েনি। বাকি পাঁচটি হাট কোনো বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই দলীয় নেতাদের নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়। পাঁচটি হাটের মধ্যে গতবছর চারটি থেকে সিটি করপোরেশনের আয় হয়েছিল ১ কোটি ৬৮ লাখ ৯৯ হাজার ২০৬ টাকা। অথচ এবার দরপত্র আহ্বান না করায় নামমাত্র মূল্যে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এতে আয় হয়েছে মাত্র ৮৯ লাখ ৩০ হাজার টাকা। অর্থাৎ সিটি করপোরেশনের রাজস্ব কমেছে ৭৯ লাখ ৬৯ হাজার ২০৬ টাকা।
আউটার রিং রোডের পাশে সিডিএ বালুর মাঠ (৩৯ নম্বর ওয়ার্ড) হাটটি মাত্র ৭০ লাখ টাকায় বরাদ্দ পেয়েছেন ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান। অথচ গত বছর এই হাটটি ইজারা দেওয়া হয়েছিল ১ কোটি ৩০ লাখ টাকায় এবং ২০২৪ সালে এর ইজারামূল্য ছিল ২ কোটি ২২ লাখ টাকা।
মধ্যম হালিশহর মুনির নগর আনন্দবাজার সংলগ্ন রিং রোডের পাশে খালি জায়গায় হাটটি থেকে গত বছর সিটি করপোরেশনের আয় হয়েছিল ২০ লাখ ৫ হাজার টাকা। এবার দরপত্র ছাড়া মাত্র ৫ লাখ টাকায় এটি বরাদ্দ পেয়েছেন ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি হাসান মুরাদ।
সিটি করপোরেশনে সংরক্ষিত হাসান মুরাদের মোবাইল ফোন করা হলে ওয়াহিদ ইমাম খান পরিচয়ে একজন রিসিভ করেন। তিনি নিজেকে হাটটির ইজারাদার ও হাসান মুরাদের ছোট ভাই পরিচয় দেন।
তার ভাষ্য, ‘জায়গাটি একটি প্রতিষ্ঠানের। এখানে হাট বসিয়ে তেমন লাভ হয় না। গতবারও যারা হাটটি বসিয়েছিলেন তারা লাভ করতে পারেননি। এবার জায়গাটি আমরা ম্যানেজ করায় হাটটি আমরা বরাদ্দ পেয়েছি।’
৪০ নম্বর উত্তর পতেঙ্গা হোসেন আহম্মদ পাড়া টিএসপি মাঠের এই হাটের গতবার ইজারামূল্য ছিল ১৩ লাখ ৮৪ হাজার টাকা। এবার যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত মো. পারভেজকে এটি দেওয়া হয়েছে মাত্র ৯ লাখ ২০ হাজার টাকায়। দরপত্র ছাড়াই পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতসংলগ্ন আলমগীর সাহেবের বালুর মাঠের হাটটি গতবারের মতো এবারও ৫ লাখ ১০ হাজার টাকায় বরাদ্দ পেয়েছেন চট্টগ্রাম নগর কৃষক দলের সভাপতি মো. আলমগীর।
উত্তর হালিশহর গলাচিপা পাড়া বারুনিঘাটা মাঠের নতুন হাটটি সাড়ে ১২ লাখ টাকায় বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে হালিশহর থানা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত জসীম উদ্দিন ও তার সহযোগীদের।
এ বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চট্টগ্রামের সভাপতি অ্যাডভোকেট আখতার কবির চৌধুরী জানালেন, ‘প্রতিযোগিতার মাধ্যমে হাট ইজারা দিলে সিটি করপোরেশন লাভবান হতো। রাজনৈতিক প্রভাবে হাট বরাদ্দ দেওয়ায় সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সিটি করপোরেশন।’
তবে চসিকের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা এস এম সরওয়ার কামাল দাবি করেন, ‘জায়গার মালিকানা নিয়ে ঝামেলা থাকায় দ্বন্দ্ব এড়াতে মালিকদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে হাটগুলো বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।’
অথচ নগরীর নূর নগর হাউজিং এস্টেটের কর্ণফুলী পশুর বাজারটিও ব্যক্তি মালিকানাধীন জায়গায়। এই হাটটির দরপত্র আহ্বান করেছিল সিটি করপোরেশন। সেখানে সাতটি দরপত্র জমা পড়ে। সর্বোচ্চ দরদাতা মোহাম্মদ ইব্রাহিম সওদাগরকে ২ কোটি ১২ লাখ টাকায় হাটটি ইজারা দেওয়া হয়। তিনি বলেছেন, ‘ইজারা নেওয়ার পর জায়গাটি ভাড়া নিয়ে হাট বসিয়েছি।’




