মেসির জন্য রাতেও উৎসবে মাতল নগরী

এবারের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা দলের প্রতিটি জয় যেন এক একটি মহাকাব্যিক স্মৃতি, যা ফুটবলপ্রেমীদের মনে বেঁচে থাকবে বছরের পর বছর। বিশেষ করে এ বয়সেও মেসির পায়ের চোখধাঁধানো-মনজুড়ানো জাদু। এর মধ্যে দুই ম্যাচে ৫ গোল করে এবারের বিশ্বকাপ মাতাচ্ছেন তিনি।
১৯৯০ বা ২০০০-এর দশকে জন্ম নেওয়া প্রজন্ম কিংবা জেন-জি তাদের কাছে লিওনেল মেসি মানেই এক অন্যরকম অনূভূতি। এক বিশুদ্ধ আবেগ। আর সেই আবেগ এবার বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছেন ‘এলএম১০’। তাই প্রিয় তারকার প্রতিটি মুহূর্তকে যুগের পর যুগ স্মরণীয় করে রাখতে সবটুকু ভালোবাসা নিংড়ে দিচ্ছে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের ফুটবলপ্রেমীরা।
গতকাল সোমবার যেন উৎসবের রাতে পরিণত হয়েছিল পুরো চট্টগ্রাম। রাত ১১টায় খেলা শুরু হলেও, উন্মাদনা শুরু হয় এর কয়েক ঘণ্টা আগে থেকে। পুরো শহরের অলিতে-গলিতে ছিল নীল-সাদার রাজত্ব। ড্রয়িংরুম থেকে বাড়ির ছাদ, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে রাজপথ বাদ যায়নি এমন কোনো স্পট। সব জায়গায় ছিল খেলা দেখার আয়োজন। কোলের শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ,সবাই মেতেছিলেন এই ফুটবল আমেজে।
রাত ১১টা বাজার সঙ্গে সঙ্গেই থমকে গিয়েছিল চট্টগ্রামের ব্যস্ত রাজপথ। আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল বা অন্য দলের সমর্থকরাও এক হয়ে বসে পড়েছিলেন ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড়ের পায়ের জাদু দেখতে। কেউ পরিবারের সঙ্গে ঘরে, কেউ বন্ধুদের নিয়ে ছাদ বা গলির প্রজেক্টরের সামনে, আবার কেউবা রাস্তার মোড়ে বড় ডিজিটাল স্ক্রিনের নিচে। সবার চোখ আটকে ছিল একজনের ওপর কখন জ্বলে উঠবে মেসির সেই বাঁ পা।
ম্যাচের শুরুতে মেসির পেনাল্টি মিসে মুহূর্তেই স্তব্ধতা নেমে এসেছিল। কিন্তু ম্যাচের ৩৮ মিনিটে মেসির চেনা শট যখন প্রতিপক্ষের জাল কাঁপিয়ে দিল, তখন যেন সমুদ্রের উত্তাল জোয়ারের মতোই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ল হাজার হাজার দর্শক। সমর্থকদের গগণবিদারী উচ্ছ্বাস, ভুভুজেলার আওয়াজ আর আতশবাজির আলোয় আলোকিত হয়ে উঠল রাতের আকাশ। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে মেসির পা থেকে যখন এলো দ্বিতীয় গোল, তখন উল্লাসের মাত্রা সব সীমানা যেন ছাড়িয়ে যায়।
খেলা শেষ হতেই গভীর রাতে নীল-সাদা জার্সি গায়ে রাজপথে নেমে আসে হাজারো মানুষ। কারও কোলে শিশু, কারও হাতে হাত, আবার কেউ বন্ধুদের সঙ্গে মেতে ওঠেন বিজয় উদযাপনে। পুরো শহর প্রকম্পিত হতে থাকে ‘মেসি, মেসি, মেসি’ স্লোগানে।
রাত গড়িয়ে সকাল হলো চট্টগ্রামের এই মেসি-বন্দনা থামার নয়। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে অফিস-আদালত, বন্ধুদের আড্ডা আর ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামের টাইমলাইন এখন শুধুই মেসির জয়গান। বিশ্বকাপ তো শুধু শুরু, সামনের ম্যাচগুলোয় মেসির পা থেকে এমন আরও জাদু দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে মেসি ভক্তরা। ধন্যবাদ মেসি, এই প্রজন্মকে এভাবে বারবার আনন্দে ভাসানোর জন্য।





