৩৫ বছর পর হওয়া চাকসুর মেয়াদ শেষ, নতুন নির্বাচনের অপেক্ষা

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) সপ্তম কেবিনেটের এক বছরের মেয়াদ শেষ হয়েছে গতকাল শুক্রবার (২৩ অক্টোবর)। এখনো পরবর্তী নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। চলতি বাজেটে নির্বাচনের জন্য রাখা হয়নি নির্দিষ্ট বরাদ্দ।
ফলে নতুন নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচনের দাবি শিক্ষার্থী ও ছাত্রসংগঠন গুলোর।
গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, মেয়াদপূর্তির তিন মাসের মধ্যে নতুন নির্বাচন আয়োজনের বিধান রয়েছে।
দীর্ঘ ৩৫ বছর বিরতির পর ২০২৫ সালের ১৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হয় চাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন। এটি ছিল সপ্তম চাকসু নির্বাচন। যেখানে জয় পায় ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্যানেল। নির্বাচিত প্রতিনিধিরা ২৩ অক্টোবর শপথ গ্রহণ করেন। সেই হিসাবে ২০২৬ সালের ২৩ অক্টোবর শেষ হয়েছে সপ্তম কেবিনেটের নিয়মিত মেয়াদ। চাকসুর উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষা এবং বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে ছাত্র সংসদের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য যথাসময়ে নির্বাচন চায় সব পক্ষ।
চাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) ইব্রাহিম হোসেন রনি জানালেন, ‘আমরা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছি। কিছু কাজ ৫০ থেকে ৬০ শতাংশের মতো হয়েছে। এ ছাড়া এমন কিছু কাজ রয়েছে, যা এক মেয়াদে শেষ করা সম্ভব নয়। এখন আমাদের চাওয়া, সময়মতো চাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। যদি প্রশাসন নির্বাচন দিতে গড়িমসি করে তাহলে ছাত্ররা প্রয়োজনে তাদের দাবি আদায়ে আন্দোলনে নামবে।’
অন্যদিকে, ছাত্রদল-সমর্থিত প্যানেল থেকে নির্বাচিত এজিএস আইয়ুবুর রহমান তৌফিক বললেন ‘আমি শিক্ষার্থীদের স্বার্থে কাজ করেছি। রেলপথ সংস্কারের বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে আবেদন দিয়েছি এবং ইতোমধ্যে রেললাইনে পাথর ফেলার কাজ হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রশাসন দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করবে বলে আশা করছি।’
এক বছরের মেয়াদ শেষে এখন নতুন নির্বাচন আয়োজনই আলোচনার কেন্দ্রে। শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, প্রশাসন দ্রুত নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করবে এবং গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করবে। শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান জানান, ‘চাকসু একটি কার্যকর ছাত্র সংসদ। গতকাল (২৩ অক্টোবর) এর মেয়াদ শেষ হয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন আয়োজনের দাবি উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে আমরা যথাসময়ে নির্বাচন আয়োজনের চেষ্টা করব। কেন্দ্রীয় বাজেটে নির্বাচনের জন্য বরাদ্দ না থাকলেও অন্যান্য খাত থেকে অর্থের ব্যবস্থা করা যাবে। ২০২৫ সালের নির্বাচনের বাজেটও এভাবে ম্যানেজ করা হয়েছিল।’



