সাফ নারী ফুটবল
ঋতুকে বলেছি আজ গোল করবি : মা

সংগৃহীত ছবি
‘ঋতুকে বলেছি আজ গোল করবি। বাংলাদেশকে জেতাবি। আমার নাতনিও (সুভা চাকমা) বলেছে-আন্টি আজ গোল করবি। মেয়ে বলেছে আশীর্বাদ করতে।’
মা বসুবতী চাকমা এভাবে আজকের ফাইনাল ম্যাচ নিয়ে নিজের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন মেয়ে ঋতুপর্ণার কাছে। ভারতের গোয়ায় অবস্থানরত ঋতুপর্ণা চাকমার সঙ্গে শুক্রবার রাতে মায়ের কথা হয়। প্রতিদিনই মেয়ের সঙ্গে ভিডিও কলে যোগাযোগ হয়। তবে গতকালের কথোপকথনে ছিল ফাইনাল প্রসঙ্গ।
গোয়ায় আজ রাতে ভারতের বিপক্ষে ফাইনালে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। হ্যাটট্রিক শিরোপার সামনে দাঁড়িয়ে ঋতুপর্ণা, সাগরিকারা। সারা দেশের মতো মানুষের প্রত্যাশার চাপ তাদের ওপর। ফাইনালে যাওয়ার পথে নেপালের বিপক্ষে ঋতুপর্ণার গোলে সমতায় ফিরে বাংলাদেশ। গতবারের সাফ ফাইনালেও নেপালের বিরুদ্ধে জয়সূচক গোলটি আসে ঋতুপর্ণার পা থেকে। তাই প্রত্যাশার পারদ অনেক বেশি।
ঋতুর মা বসুবতীও আজ ফাইনাল খেলা দেখার জন্য উদগ্রীব। ঘরে টিভি আছে। তবে বিদ্যুৎ থাকবে কিনা সেই চিন্তাও ঘুরপাক খাচ্ছে তার মনে- ‘বিদ্যুতের বেশি সমস্যা। বিদ্যুৎ থাকলে ঘরে টিভিতে মেয়ে, নাতনিসহ খেলা দেখব। পাড়া প্রতিবেশীরাও আসে দেখতে। না থাকলে মোবাইলে দেখতে হবে।’
সাফ নারী ফুটবলের ফাইনাল ঘিরে টিভিতে পত্রিকায় ঋতুপর্ণার ছবি ছাপা হচ্ছে ভিডিও আসছে, তা চোখ এড়ায়নি বসুবতীর। তিনি বলেন, ‘আমার মেয়েটা লাজুক প্রকৃতির। পত্রিকায় ছবি এলে তার লজ্জা লাগে।’
ঋতুর বোন পুতুল ও তার মেয়ে সুভাসহ রাঙামাটির কাউখালীর মগাছড়ি গ্রামে থাকেন বসুবতী। ক্যানসার আক্রান্ত তিনি। চিকিৎসা চলছে। সেমিফাইনালের দিন চট্টগ্রামে ডাক্তারের কাছে যেতে হয়েছিল তার। খেলা দেখতে হয়েছিল গাড়িতে বাড়ি ফিরতে ফিরতে মোবাইল ফোনে।
ঋতু খুব চিন্তা করে মায়ের জন্য। বাইরে থাকলে প্রতিদিন মায়ের সঙ্গে কথা বলেন। মায়ের শরীরের খোঁজ খবর নেন। মা শুধু খেলায় মনোযোগ দিতে বলেন মেয়েকে। ‘চিন্তা না করতে বলেছি। ঋতু বলেছে আশীর্বাদ করতে, প্রার্থনা করতে। আমার ঘরে ভগবান বুদ্ধ মূর্তি আছে। সকালে ফুল দিয়েছি প্রতিদিনের মতো। সন্ধ্যায় বাতি জ্বালাব। আপনারাও মেয়ের জন্য আশীর্বাদ করবেন, যেন জিতে ফিরে।’-বললেন বসুবতী।
ঋতুপর্ণা শেষবার বাড়ি গিয়েছিল বিজু উৎসবের সময়। সেবার সপ্তাহখানেক ছিলেন। গত দুইবারই সাফ চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্য ছিলেন দুবারই চ্যাম্পিয়ন হয়ে ফেরার পর রাঙামাটিতে ঋতু, রূপণা, মনিকাদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছিল। উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছিল ঋতুদের পাড়ায়। এবারও এমন উৎসবের প্রতীক্ষায় পাহাড়।




