সীতাকুণ্ড
ছাত্রদল নেতার সঙ্গে বিরোধে খুন যুবদল কর্মী, নেপথ্যে স্ক্র্যাপ ব্যবসা

ছবি: আগামীর সময়
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সাগর উপকূলজুড়ে শিপব্রেকিং ইয়ার্ড, ইস্পাত কারখানাসহ আছে বিভিন্ন ভারী শিল্পকারখানা। এসব কারখানা থেকে বের হয় প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার স্ক্র্যাপ। প্রভাব খাটিয়ে সেই স্ক্র্যাপ সংগ্রহ করে বিক্রি করেন সরকারি দলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা। এ নিয়ে খুনখারাবি।
গত শুক্রবার রাতে সীতাকুণ্ড উপজেলার বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের অলিনগর গ্রামে খুন হন বিএনপির সহযোগী সংগঠক যুবদলের কর্মী তারেক হোসেন বাপ্পি। এ ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশ বলছিল, স্ক্র্যাপ ‘ব্যবসায়’ আধিপত্য নিয়ে বিরোধ শুরু হয়েছিল তারেক ও স্থানীয় ছাত্রদল নেতা আরিফের মধ্যে। সেই বিরোধের জেরে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে খুন হন তারেক।
আজ রবিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মাসুদ আলম হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরলেন।
গ্রেপ্তার ছয়জন হলেন, ছাত্রদল নেতা আরিফ হোসেন, ফখরুল ইসলাম, আব্দুল মান্নান, ইফতেখার, আরিফুল ইসলাম জাবেদ এবং রনি। তাদের বয়স ৩০-৩২ বছরের মধ্যে। বাড়ি সীতাকুণ্ডের বাড়বকুণ্ডে।
এসপি মাসুদ আলম বললেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে স্থানীয় প্রভাব বা আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। ওই এলাকায় অনেক ইন্ডাস্ট্রি আছে। বিশেষ করে স্টিল কারখানায় তারা স্ক্র্যাপ কেনাবেচা করে। আর্থিক স্বার্থ জড়িত। পাশাপাশি অনেক বিষয় থাকতে পারে। সব তদন্তে বেরিয়ে আসবে।’
ঘটনায় জড়িতদের রাজনৈতিক পরিচয় পুলিশের কাছে মুখ্য নয় বলেও মন্তব্য করলেন এসপি, ‘এখানে যে মারা গেছে, সে যুবদলের ওখানকার কর্মী। আর গ্রেপ্তার আরিফ ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে জড়িত। আমরা জড়িতদের আইনের আওতায় নিয়ে এসেছি। তদন্ত এখনো চলমান। যারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত, সবাইকে আইনের আওতায় নিয়ে আসব। রাজনৈতিক পরিচয় বিষয় না। যে দলেরই হোক, যে বড় ভাইয়ের ছত্রছায়ায় হোক বা যার ছায়াতলেই থাকুক, এখানে কিন্তু পুলিশ কোন কিছু দেখে না। আমরা জানিও না কার ছায়াতলে আছে। এখনো পর্যন্ত এ ব্যাপারে কেউ কোনো তদবির করেনি। যে অপরাধ করবে, তাকেই আমরা আইনের আওতায় নিয়ে আসব।’
গ্রেপ্তার ছয়জনের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি বিদেশি রিভলবার ও একটি এলজি উদ্ধার করা হয়েছে। এসব অস্ত্র হত্যাকাণ্ডে ব্যবহারের তথ্য তারা দিয়েছেন বলে জানালেন এসপি মাসুদ আলম।



