রিজভী
কয়েকটা দিন পরীক্ষা পিছিয়ে দিলে এমন কী ক্ষতি হতো?

ছবি: আগামীর সময়
এইচএসসি পরীক্ষা পেছানোর দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া গ্রামে বন্যার্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণের সময় তিনি একথা জানালেন।
টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার মধ্যে গতকাল সোমবার এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্নস্থানে শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছেন। এ সময় তারা শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগ দাবি করেন।
বন্যার মধ্যে পরীক্ষা নেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন রুহুল কবির রিজভীও। তিনি বললেন, ‘ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা চলছে। এই বন্যার মধ্যে পরীক্ষা…। আমাদেরই তো আজকে পানি ডিঙিয়ে এই গ্রামে আসতে হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটা দিন পরীক্ষা পিছিয়ে দিলে এমন কী ক্ষতি হতো!’
‘পরীক্ষা দিতে গিয়ে, স্কুল-কলেজে যেতে গিয়ে শিক্ষার্থী পানিতে পড়ে গেছে। একটি বাচ্চা ছেলে, একটি কিশোর ছেলে এই বন্যার কারণে সে পরীক্ষা দিতে যেতে পারছে না। আর দিতে গিয়ে সে যদি পানিতে ডুবে যায় তাহলে এটা অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা।’
পরীক্ষার পেছানোর জনপ্রত্যাশার সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করলেন তিনি। জানালেন, ‘শিক্ষামন্ত্রীর কাছে অনুরোধ, এটা ভয়ঙ্কর রকমের জনদুর্ভোগ। আপনি এদিকে দৃষ্টি দেবেন। পরীক্ষা কিছুদিনের জন্য, কয়েকদিনের জন্য পিছিয়ে দিন। পানি কমুক। তখন আবার পরীক্ষা নেওয়া যাবে।’
লক্ষণ খুব ভালো নয়
১৪ জুলাই ২০২৬
ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলমসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা ও দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে ত্রাণ বিতরণ করেন রুহুল কবির রিজভী। বাঁশখালীর আগে আনোয়ারা উপজেলার তৈলারদ্বীপ এলাকায় বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা হয়।
আনোয়ারায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বন্যার ভয়াবহতার জন্য আওয়ামী লীগ সরকারের অপরিকল্পিত উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে দায়ী করলেন। বললেন, ‘কাউকে খুশি করতে পরিবেশবিদদের আপত্তি উপেক্ষা করে সুন্দরবনের পাশে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। এর ফলে বৃক্ষ নিধনসহ নানা কারণে সুন্দরবন আজ হুমকির মুখে। তথাকথিত উন্নয়নের আড়ালে দেশের হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। পরিবেশকে বিপন্ন করে জনগণকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলা হয়েছে।’
‘সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের বাড়িতে যাওয়ার জন্য হাওড়ের ওপর সড়ক নির্মাণ করা হয়েছিল। যার কারণে ওই এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের আবাসস্থল ধ্বংস হয়েছে।’- বললেন রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বললেন, ‘চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় খাল দখল, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ এবং ব্যক্তিস্বার্থে কালভার্ট নির্মাণের কারণে জলাবদ্ধতা বেড়েছে। দখলদার যে-ই হোক না কেন, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন।’





