বৃষ্টিমাথায় উৎকণ্ঠা ছাপিয়ে ক্যাম্পাসে জয়োৎসব

উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় কেটেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মঙ্গলবার রাতের ৯০ মিনিট। ছবি: আগামীর সময়
‘মেসি যখন পেনাল্টি মিস করল, তখনই বুকটা কেঁপে উঠেছিল। ২-০ হওয়ার পর মনে হচ্ছিল সব শেষ। কিন্তু মেসি আছে বলেই আশা ছাড়িনি।’
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ শাকিলের মতো এমন উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় কেটেছে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মঙ্গলবার রাতের ৯০ মিনিট। খেলা শেষে উৎকণ্ঠা ছাপিয়ে উৎসবে মেতেছে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। চট্টগ্রামের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ভারী বৃষ্টিপাত কোয়ার্টার ফাইনালে উন্নীত আর্জেন্টিনার জয়োৎসবে বাধা হতে পারেনি।
প্রতিপক্ষ মিসর এমন কঠিন পরীক্ষায় ফেলবে ভাবতে পারেননি আর্জেন্টিনার সমর্থকরা। মঙ্গলবার রাত ১০টায় ম্যাচ শুরুর আগে থেকেই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছিল উৎসবের আমেজ। তবে বৈরী আবহাওয়া বারবার বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে আনন্দ আয়োজনে। থেমে থেমে বৃষ্টি, মোবাইল নেটওয়ার্কের দুর্বল সিগন্যাল আর বিদ্যুতের আসা যাওয়া— কোনো কিছুই দমাতে পারেনি আর্জেন্টিনা সমর্থকদের।
গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির মাঝেই বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল থেকে ছোট ছোট মিছিল নিয়ে ছাত্র-ছাত্রীরা জড়ো হতে থাকে বড় পর্দার সামনে। শহীদ মিনার চত্বরে ভিড় করেন শত শত শিক্ষার্থী। বেশির ভাগের পরনে আর্জেন্টিনার জার্সি। আকাশি-সাদা জার্সি আর পতাকায় 'মেসি, মেসি' ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস।
কিন্তু ম্যাচের শুরুটা ছিল আর্জেন্টিনা সমর্থকদের জন্য দুঃস্বপ্নের। ১৫তম মিনিটে ইয়াসের ইব্রাহিমের গোলে এগিয়ে যায় মিসর। ছয় মিনিট পর পেনাল্টি পেলেও সেটি কাজে লাগাতে পারেননি অধিনায়ক লিওনেল মেসি। মিসরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইরের দুর্দান্ত সেভে হতাশ হয়ে পড়েন আর্জেন্টিনা সমর্থকরা। প্রথমার্ধ শেষে ১-০ গোলে পিছিয়ে থাকায় ক্যাম্পাস জুড়ে নেমে আসে নিস্তব্ধতা।
দ্বিতীয়ার্ধের ৬৭তম মিনিটে মোস্তফা জিকোর গোলে ব্যবধান ২-০ হলে অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন, এবার বুঝি বিশ্বকাপ শেষ হয়ে যাচ্ছে মেসিদের। কেউ মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়েন, কেউ আবার নীরবে প্রার্থনায় মগ্ন হয়ে যান। রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে শেষ মুহূর্তের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে মিসরকে ৩–২ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা।
এরপরই যেন বদলে যায় পুরো ম্যাচের গল্প। ৭৯তম মিনিটে মেসির ফ্রি-কিক থেকে হেডে ব্যবধান কমান ক্রিস্তিয়ান রোমেরো। মাত্র চার মিনিট পর গঞ্জালো মন্তিয়েলের পাস থেকে দুর্দান্ত শটে সমতা ফেরান মেসি। তখন পুরো ক্যাম্পাসে শুরু হয় নতুন করে উল্লাস। যারা কিছুক্ষণ আগেও নিশ্চুপ ছিলেন, তারাই আনন্দে চিৎকার করে ওঠেন।
নির্ধারিত সময়ের যোগ করা সময়ে আসে নাটকীয় সমাপ্তি। লাউতারো মার্তিনেজের ক্রস থেকে হেডে জয়সূচক গোল করেন এনজো ফার্নান্দেজ। মুহূর্তেই বিস্ফোরিত হয় পুরো ক্যাম্পাস। ‘আর্জেন্টিনা, আর্জেন্টিনা’ স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ। কেউ আনন্দে কেঁদেছেন, কেউ বন্ধুদের জড়িয়ে ধরেছেন, আবার কেউ পতাকা হাতে বিজয় মিছিল করেছেন।
শিক্ষার্থী সুমন মিয়া বলেছেন, ‘এমন প্রত্যাবর্তন জীবনে খুব কমই দেখা যায়। ২ গোলে পিছিয়ে থেকে ৩-২ এর জয়। বৃষ্টিতে ভেজার সব কষ্ট মুহূর্তেই ভুলে গেছি।’






