ব্যাংকিং খাতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না: গভর্নর

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চট্টগ্রাম কার্যালয়ে এক মতবিনিময় সভায় যোগ দেন গভর্নর মোহাম্মদ মোস্তাকুর রহমান। ছবি: আগামীর সময়
ব্যাংকিং খাতে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোহাম্মদ মোস্তাকুর রহমান।
দেশের ব্যাংকগুলোর নানা অনিয়মের বিষয়ে সর্বোচ্চ শাস্তির সুপারিশ করে পরিদর্শন প্রতিবেদন তৈরি করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শকদের নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
গতকাল শুক্রবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চট্টগ্রাম কার্যালয়ে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেছেন তিনি।
অনুষ্ঠানে ‘এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য: চট্টগ্রাম অঞ্চলের সম্ভাবনা’ শীর্ষক একটি কনসেপ্ট পেপার উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা। সেখানে বলা হয়, চট্টগ্রাম অঞ্চলে বন্ধ হয়ে যাওয়া ২০০ শিল্প কারখানা চালু করে ১০ লাখ কর্মসংস্থান করতে চায় বাংলাদেশ ব্যাংক। এজন্য জ্বালানি সংকট, দীর্ঘমেয়াদী পুঁজির অভাব এবং দক্ষ অপারেটরের ঘাটতির মতো প্রধান প্রতিবন্ধকতাগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে।
কনসেপ্ট পেপারে চট্টগ্রাম অঞ্চলের সামষ্টিক অর্থনীতি, শিল্পায়ন ও ব্যাংকিং খাতের প্রধান প্রতিবন্ধকতাগুলো চিহ্নিত করে তা উত্তরণের রূপরেখা তুলে ধরা হয়। বলা হয়, কারখানাগুলোর কারণে এরই মধ্যে প্রায় পাঁচ লাখ কর্মী বেকার হয়ে পড়েছেন এবং প্রায় ১ লাখ কোটি টাকার খেলাপি ও অবাণিজ্যিক ঋণ জমেছে। অলস জমির বিকল্প ব্যবহার, আইনি জটিলতা নিরসন এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিগত সহায়তার মাধ্যমে ব্যাংক ও অর্থনীতির সামগ্রিক স্বাস্থ্য রক্ষা করে একটি সমন্বিত অর্থনৈতিক সমাধান নিশ্চিত করা সম্ভব বলে জানানো হয়।
কনসেপ্ট পেপারে প্রস্তাবিত বিষয়ে একমত জানিয়ে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে বেশকিছু নির্দেশনা দেন গভর্নর। ক্ষুদ্র ঋণ ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে ঋণ প্রবাহ বৃদ্ধি, ‘এক গ্রাম, এক পণ্য’ নীতির কার্যকর বাস্তবায়ন, ব্লু-ইকোনমি, সামুদ্রিক সম্পদ, তথ্যপ্রযুক্তি বা আইটি সেক্টর এবং ম্যানমেড ফাইবারে দীর্ঘমেয়াদী ও সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা দেওয়ার নির্দেশনা দেন। দক্ষ শ্রমিকদের বিদেশে পাঠানো এবং প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের কার্যক্রম জোরদারের পরামর্শ উঠে আসে গভর্নরের বক্তব্যে।
বিশেষ অতিথি ডেপুটি গভর্নর ড. মোহাম্মদ কবির আহাম্মদ জানালেন, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্ব অর্থনীতি চাপে থাকবে। কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য আঞ্চলিক সেন্ট্রাল ব্যাংকিং কার্যক্রম বৃদ্ধি করতে হবে। পাশাপাশি আর্থিক বৈষম্য ও আয় বৈষম্য কমাতে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।
চট্টগ্রাম কার্যালয়ের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ হানিফ মিয়ার সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন বাংলাদেশে ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।






