‘সুকান্ত পড়ে না, রবীন্দ্রনাথ বোঝে না, নজরুল শুধু একজন মুসলমান’

ছবি: আগামীর সময়
রবীন্দ্র-নজরুল-সুকান্তবিমুখ প্রজন্ম নিয়ে আক্ষেপের কথা জানালেন একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেন। বললেন, আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা জাতির এ সর্বনাশটা করেছে।
দ্রোহ ও সাম্যের কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের জন্মশতবর্ষের আয়োজনে তিনি প্রজন্মকে বইমুখী করার পথও বাতলে দিলেন। উদীচী চট্টগ্রাম জেলা সংসদ নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
আবুল মোমেন বললেন, 'বাঙালির সমাজ প্রগতির আন্দোলনে রবীন্দ্রনাথ নজরুল সুকান্তের সবচেয়ে বড় অবদান। তিনজনের সৃষ্টিকর্ম যদি আমরা মেলাতে যাই তাহলে দেখব একটি অসাম্প্রদায়িক সমাজব্যবস্থার কথা। দুর্ভাগ্যজনক হচ্ছে আমরা সেই সমাজব্যবস্থা গড়তে পারিনি। একাত্তর আমাদের একটা সুযোগ দিয়েছিল। কিন্তু আমরা মানুষের মননটাকে গঠন করতে পারিনি। প্রগতির চিন্তাটা তরুণদের মধ্যে গেঁথে দিতে পারিনি।'
'এর ফলশ্রুতিতে তরুণরা সুকান্ত পড়ে না। তাদের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের যোগ শুধুমাত্র পাঠ্যবইয়ে। আজকের প্রজন্ম সাহিত্য বোঝে না। রবীন্দ্রনাথ বোঝে না। রবীন্দ্রনাথের চেয়ে নজরুল এগিয়ে ছিলেন অসাম্প্রদায়িক চেতনার সাহিত্যকর্মে। কিন্তু প্রজন্ম নজরুলকে মনে রাখছে একজন মুসলমান হিসেবে। সুকান্তকে তো ঝেড়েই ফেলেছে।'
সর্বনাশটা হয়েছে শিক্ষাব্যবস্থায়- এমন মন্তব্য করে মোমেন বললেন, 'এখন কোনো উপন্যাস না পড়েও বাংলা সাহিত্যে অনার্স-মাস্টার্স পাশ করা যায়। ইংরেজি সাহিত্যেও পাশ করা যায়। সাহিত্যপাঠ ছাড়াই, বই না পড়েই প্রজন্মের পর প্রজন্ম বেড়ে উঠছে। এ সর্বনাশ থেকে আমাদের রক্ষা পেতে হলে আমাদের রবীন্দ্রনাথ নজরুল সুকান্তকে নিয়ে আবার স্কুলে ঢুকতে হবে।'
প্রাবন্ধিক ও সাংবাদিক সুভাষ দে বললেন, 'সুকান্ত আমৃত্যু মার্কসবাদী দর্শনে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন। বাংলা সাহিত্যে বিপ্লবের কন্ঠস্বর সুকান্ত। শোষিত শ্রমজীবী মানুষের জীবনের লড়াইয়ে সুকান্তই অন্যতম আশ্রয়।'
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের সাবেক অধ্যাপক আবুল মনসুর বলেন, 'সুকান্তকে প্রাসঙ্গিক রেখেই এগিয়ে যেতে হবে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে নতুনভাবে আমাদের রাজনৈতিক চিন্তার জগতকে সাজাতে হবে।'
উদীচী চট্টগ্রাম জেলা সংসদের আহ্বায়ক অমল কান্তি নাথের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম আহ্বায়ক শীলা দাশগুপ্তার সঞ্চালনায় আলোচনায় আরও অংশ নেন কবি ও নাট্যজন অভীক ওসমান, কবি ইউসুফ মুহাম্মদ, কেন্দ্রীয় উদীচীর সহসভাপতি বেলায়েত হোসেন ও চট্টগ্রামের সদস্য শিমুল সেন।
এরপর সাংস্কৃতিক পর্বে দলীয় ও একক গান, নাচ ও আবৃত্তি পরিবেশন করা হয়।



