বন্দর কাস্টমসের সমস্যা দ্রুত সমাধানে যৌথ কমিটি : অর্থমন্ত্রী

চট্টগ্রাম বন্দর ভবনে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী— আগামীর সময়
চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টমসে ব্যবসা সহজীকরণে বাধা চিহ্নিত করে সমাধানে উপায় বের করা হয়েছে। বন্দর, কাস্টমস দুপক্ষ সমাধানে একমত হয়েছে। সমস্যা কবে নাগাদ বাস্তবায়ন হবে সেই সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
আজ মঙ্গলবার চট্টগ্রামে এসে বন্দর ভবনে চট্টগ্রাম চেম্বার প্রেসিডেন্ট, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড চেয়ারম্যান, বন্দর চেয়ারম্যানকে সাথে নিয়ে দীর্ঘ মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। সেখানেই এসব সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা জানান মন্ত্রী।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী মনে করছেন ‘ইজ অফ ডুইং বিজনেস’ বা ব্যবসাকে সহজ করার জন্য আজকের সভা অনেক বড় পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। বিভিন্ন পর্যায়ে ব্যবসায়িক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করার বিষয় আলোচনায় চিহ্নিত হয়েছে। বিশেষ করে পণ্য ছাড় কায়িক পরীক্ষায় কাস্টমসের দীর্ঘসূত্রিতার অভিযোগ বার বার আলোচনায় এসেছে। আগামী দিনে পোর্ট-কাস্টমস একসাথে বসে যাতে সমস্যার সমাধান করতে পারে সেজন্য একটি কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর, কাস্টমসের কার্যক্রম অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য, কার্যকর হবে। কম সময়ের মধ্যে পণ্য খালাস ও রপ্তানি কার্যক্রম শেষ হবে।
বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ এনসিটি বিদেশিদের দেয়ার বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত জানতে চান এক গণমাধ্যমকর্মী। সরাসরি জবাব না দিয়ে অর্থমন্ত্রী বললেন, ‘পোর্ট কে চালাবে না চালাবে এটা আমাদের বিষয় না। যারাই পোর্ট চালাক, সেটা দেশি হোক বা বিদেশি হোক, তাদের জনগণের স্বার্থে, ব্যবসার স্বার্থে, ইন্ডাস্ট্রির স্বার্থে, বাংলাদেশের অর্থনীতির স্বার্থে একই পথে চালিত হতে হবে।’
এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, চট্টগ্রাম কাস্টমসে একটি চক্র গড়ে উঠেছে যারা অর্থমন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে অবৈধপণ্য কায়িক পরীক্ষা করতে দিচ্ছে না। কাস্টমসকে ভয়মুক্ত কাজ করার সরকারের পদক্ষেপ জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রীর সাফ জবাব, এই সরকারের আমলে এই ধরনের পৃষ্ঠপোষকতার কোনো সুযোগ নাই। সে যত বড়ই মন্ত্রী হোক, যত পাওয়ারফুল লোক হোক, কোনো সুযোগ নেই। এসব পৃষ্ঠপোষকতার কোনো ব্যবসা করতে দেব না।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বাংলাদেশকে একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে স্থিতিশীল অর্থনীতিতে নিয়ে যাওয়াই মূল লক্ষ্য। বাংলাদেশের অর্থনীতিকে চাঙা করে জনগণের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা, রপ্তানি বাড়ানো, শিল্পায়ন বাড়ানো এবং ব্যবসা সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করা, যাতে ব্যবসায়ীরা নির্বিঘ্নে ব্যবসা করতে পারেন।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক জানালেন, বর্তমানে কাস্টমসে প্রায় ১০ হাজার নিলামযোগ্য পণ্যের কনটেইনার আটকে রয়েছে। এসব কনটেইনার দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বন্দরে জমে থাকা খালি কনটেইনার দ্রুত বাইরে সরিয়ে নেওয়া, বেসরকারী অফডক থেকে সরাসরি রপ্তানির সুযোগ দেয়ার বিষয়েও বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সভায় রাজস্ব বোর্ড চেয়ারম্যান আহসান হাবিব, বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান, চট্টগ্রাম সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি এস এম সাইফুল হক, সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী, বিজিএমইএ পরিচালক সাইফুল্লাহ মনসুর, চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন বিভাগীয় প্রধান, কাস্টমসের শীর্ষ কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।





