অমাবস্যায় রুপালি ইলিশের হাসি

রানি রাসমণি ঘাট থেকে তোলা- আগামীর সময়
ইলশে গুঁড়ি বৃষ্টিতে কপাল খুলেছে মৎস্যজীবীদের। ক্রমশ বিলাসী ভোগ্যপণ্যের (মাছ) তালিকায় ঠাঁই করে নেওয়া ইলিশের দেখা মিলতে শুরু করেছে। চলমান অমবস্যার জো-তে নদী এবং সাগরে ইলিশ ধরা পড়ছে কিছু কিছু। একেবারে আগের ভরা মৌসুমের মতো নয়। তারপরও মাছপ্রিয় বাঙালির এবার স্বাদের ইলিশ চেখে দেখার মতো সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
সাধারণত পূর্ণিমা এবং অমাবস্যার জোতে রুপালি ইলিশ বেশি ধরা পড়ে। জো বলতে অমাবস্যা এবং পূর্ণিমা তিথিতে নদী বা সমুদ্রের পানি ফুলে ওঠার সময়কে বোঝায়। এখন অমাবস্যার জো চলছে। অমাবস্যার তিনদিন আগে থেকে জো শুরু হয়। আজ অমাবস্যা। আগামী তিন থেকে চারদিন এই জো অব্যাহত থাকবে। জোতে মাছ ধরার জন্য আগে থেকেই পূর্ব প্রস্তুতি নিয়ে থাকেন জেলে এবং মৎস্যজীবীরা। ইলিশ মৌসুম শুরু হওয়ার পর আগের জো গুলোতে তেমন ইলিশের দেখা মেলেনি। জেলেরা সাগর থেকে ফিরেছেন নিরাশ মুখে।
চলমান জো-তে তাতে কিছুটা পরিবর্তন চোখে পড়ছে। মাছ ধরা পড়ছে। জো-এর সঙ্গে আছে ঝিরি ঝিরি বৃষ্টি। এ সময়টা ইলিশের জন্য মোক্ষম বলে ধরে নেন মৎস্যজীবীরা। তবে পূবালী বাতাসের কারণে মাছ ধরায় বেগ পেতে যেমন হচ্ছে তেমনি মাছও তুলনামূলক কম পড়ছে বলে জানান মৎস্যজীবীরা। তাদের মতে দক্ষিণ-পশ্চিমের বাতাসে ইলিশ বেশি ধরা পড়ে। বর্তমানে বাতাস বইছে পূবালী। এতে অনেক নৌযানও ডুবে গেছে বলে জানান তারা। তার পরও মাছ ধরার পরিমাণ বেড়েছে।
তা স্বীকার করছেন কাট্টলী রানি রাসমণি ঘাটের আড়ৎদার ও মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি মো. হাসান, ‘আগের চেয়ে এই জো-তে মাছ তুলনামূলক বেশি পড়ছে। ছোট বড় বিভিন্ন আকারের মাছ গত তিনদিন ধরে পড়তে শুরু করেছে। মাঝারি কাঠের নৌযানগুলোতে এক মণ পর্যন্ত মাছ আসছে। অ্যাসবেস্টরের ছোট বোটে ২০ থেকে ৩০ কেজি মাছ পড়ছে। দামও আগের চেয়ে কমেছে। দক্ষিণ-পশ্চিমের বাতাস হলে মাছ আরও বেশি পড়তো।’
উল্লেখ্য, রাসমণি ঘাট সংলগ্ন সমুদ্র উপকূলে ছোট ছোট কাঠ ও অ্যাসবেস্টরের নৌযান নিয়ে মাছ ধরতে যান মৎস্যজীবীরা। এখানে বর্তমানে কেজিতে ৪-৫টি আকারের ইলিশের দাম মণ প্রতি ১৬ হাজারে বিক্রি হচ্ছে। এটা এর আগে বিক্রি হয় ২৫ হাজার টাকায়। কেজিতে দুটি ধরে এমন ইলিশের মণ ৩৫ হাজার টাকায় নেমে এসেছে। আগামী দুই তিনদিন এভাবে ইলিশ ধরা পড়লে দাম আরও কমবে বলে মনে করছেন হাসান।
ইলিশের জোগান বেড়েছে নগরের প্রধান মাছের আড়ত কিংবা বড়বাজার ফিসারিঘাটেও। এখানকার আড়তে এই জো তে ইলিশ আসছে। আগামী চার পাঁচদিনের মধ্যে তা আরও বাড়তে পারে। ফিসারিঘাট সোনালী যান্ত্রিক মৎস্য শিল্প সমবায় সমিতির অধীনে প্রায় ১০ হাজার কাঠের নৌযান রয়েছে। এদের বেশির ভাগই এখন সাগরে মাছ ধরতে চলে গেছে। কিছু কিছু আসতে শুরু করেছে।
সমিতির পরিচালক মো. কাউছারুজ্জামান আগামীর সময়কে বললেন, ‘কিছু মাছ পড়ছে। তবে তা একেবারে বলার মতো নয়। নৌযানগুলো এখনো সাগরে। ওখান থেকে ফিরলে মাছের পরিমাণ বোঝা যাবে। তবে দাম কিছুটা কমেছে।’
মৎস্য অধিদপ্তর মাছধরায় ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। ১২ জুন থেকে মাছধরা শুরু হয়। অনেক আশায় নদী সাগরে জাল ফেলেছিলেন মৎস্যজীবীরা। কিন্তু ইলিশ বরাবরই অধরা থেকে গেছে। অল্প কিছু ইলিশ ধরা পড়লেও দাম ছিল আকাশচুম্বী। এবার কিছুটা কমছে দাম।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সালমা বেগমও অমবস্যার জো-কে ঘিরে আশার আলো দেখছেন। ‘এবার কিছু ইলিশ ধরা পড়ছে। আসতে শুরু করেছে। আগামী কয়েকদিনে তা আরও ভালো বোঝা যাবে। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আরও অন্তত তিন চারবার এমন জো এর দেখা মিলবে। অক্টোবরের যেকোনো সময় থেকে মাছ ধরা বন্ধ হতে পারে। সেই নিষেধাজ্ঞা কবে থেকে হবে তা গবেষক ও জরিপ কর্মকর্তারা বসে ঠিক করবেন,' বলছিলেন তিনি।







