ক্যামেরার শব্দও নকল করে যে পাখি

মানুষের তৈরি নানা শব্দও নকল করতে পারে এই আশ্চর্য পাখি
একটা পাখি ডাকছে, অথচ শুনতে পাচ্ছেন ক্যামেরার ক্লিক শব্দ।
হ্যাঁ ঠিকই পড়েছেন!
অস্ট্রেলিয়ার বনের ভেতর লুকিয়ে থাকা লাইয়ারবার্ডের কণ্ঠ থেকেই ভেসে আসে এমন আওয়াজ। অন্য পাখির ডাক তো বটেই, মানুষের তৈরি নানা শব্দও নকল করতে পারে এই আশ্চর্য পাখি।
অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বনাঞ্চলে দেখা মেলে সুপার্ব লাইয়ারবার্ডের। দেখতে বেশ আকর্ষণীয় এই পাখির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য তার লম্বা ও বিচিত্র আকৃতির লেজ। বিশেষ করে পুরুষ পাখির লেজের পালক ছড়িয়ে দিলে তা দেখতে অনেকটা প্রাচীন বাদ্যযন্ত্র লাইয়ারের মতো লাগে। এই বাদ্যযন্ত্রের নাম থেকেই পাখিটির নাম হয়েছে লাইয়ারবার্ড।
তবে তার আসল কৃতিত্ব কণ্ঠে। বনের অন্য পাখির ডাক শুনে তা এমন নিখুঁতভাবে নকল করতে পারে যে, অনেক সময় আসল পাখির ডাক আর লাইয়ারবার্ডের অনুকরণ আলাদা করা কঠিন হয়ে পড়ে।
কণ্ঠে যেন পুরো এক বন
লাইয়ারবার্ডের গান শুনলে মনে হতে পারে, বনের সব পাখি একসঙ্গে গাইছে। অথচ শব্দের এই আয়োজনের পেছনে থাকতে পারে একটি পাখিই। অস্ট্রেলিয়ান মিউজিয়ামের তথ্য অনুযায়ী, সুপার্ব লাইয়ারবার্ডের গানের বড় একটি অংশ অন্য পাখির ডাকের অনুকরণ। সে আশপাশের পাখিদের শব্দ শুনে সেগুলো নিজের গানে যুক্ত করে।
তার অনুকরণক্ষমতার সবচেয়ে মজার দিক হলো, এটি শুধু প্রকৃতির শব্দে আটকে নেই। বন্দী অবস্থায় থাকা কিছু লাইয়ারবার্ডকে ক্যামেরার শাটারের ক্লিক, করাতকলের চেইনস, গাড়ির অ্যালার্ম এবং জরুরি সাইরেনের মতো শব্দ নকল করতে দেখা গেছে। বিবিসির একটি প্রামাণ্যচিত্রেও এমন অনুকরণের দৃশ্য তুলে ধরা হয়েছিল।
ভাবুন তো, বনে গিয়ে ক্যামেরায় ছবি তুলছেন। হঠাৎ আপনার ক্যামেরার শব্দেই সাড়া দিল একটি পাখি! তবে যন্ত্রের শব্দ নকল করা লাইয়ারবার্ডের নিয়মিত বন্য আচরণ নয়। মানুষের তৈরি শব্দের সংস্পর্শে এলে বিশেষ পরিস্থিতিতে এমন অনুকরণ দেখা যেতে পারে।
সঙ্গী জোটাতেও গানের জাদু
লাইয়ারবার্ডের এই অসাধারণ ক্ষমতা কেবল মানুষকে অবাক করার জন্য নয়। প্রজনন মৌসুমে পুরুষ পাখি গান গায়, লেজ মেলে ধরে এবং বিশেষ ভঙ্গিতে নাচে। এসব প্রদর্শনের মাধ্যমে সে স্ত্রী পাখিকে আকর্ষণ করার চেষ্টা করে। অন্য পাখির ডাকসহ নানা শব্দের নিখুঁত অনুকরণ তার এই পরিবেশনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
শব্দ শুনে মনে রাখা এবং পরে তা কণ্ঠে ফুটিয়ে তোলার দক্ষতা লাইয়ারবার্ডকে প্রাণিজগতের অনন্য অনুকরণকারীদের একটি করে তুলেছে। অবশ্য তার কণ্ঠে মানুষের মতো কথা বলার ক্ষমতা নেই; বরং শোনা শব্দের বৈশিষ্ট্য অনুকরণ করাই তার বিশেষত্ব।
অস্ট্রেলিয়ার বনে তাই লাইয়ারবার্ডের গান শুনলে মনে হতে পারে, সেখানে একসঙ্গে অনেক পাখি কিংবা নানা যন্ত্র কাজ করছে। অথচ শব্দের এই বিচিত্র জগৎ তৈরি করছে একটিমাত্র পাখি। প্রকৃতি যে কত বিচিত্র উপায়ে নিজের বিস্ময় প্রকাশ করতে পারে, লাইয়ারবার্ড তারই এক জীবন্ত উদাহরণ।
তথ্যসূত্র: অস্ট্রেলিয়ান মিউজিয়াম, বিবিসি




