বিলুপ্তির ঝুঁকিতে থাকা পাখিদের বাঁচাতে টিকা দিবে অস্ট্রেলিয়া

ছবি: রয়টার্স
অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশীয় পাখিদের সুরক্ষায় বার্ড ফ্লুর টিকাদান কর্মসূচি চালু করতে যাচ্ছে দেশটির সরকার। অত্যন্ত সংক্রামক এইচ৫এন১ (H5N1) ধরনের বার্ড ফ্লুর বিরুদ্ধে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে টিকা দেওয়া শুরু হবে।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার প্রাথমিকভাবে দেশীয় প্রজাতি ও বন্দি অবস্থায় থাকা পাখিদের টিকা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সরকার।
অস্ট্রেলিয়া সরকার জানিয়েছে, এইচ৫এন১ ধরনের বার্ড ফ্লুর জন্য প্রায় ১ হাজার ৫০০ ভায়াল টিকা কেনা হয়েছে। এতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২০ লাখ অস্ট্রেলীয় ডলার, যা প্রায় ১৪ লাখ মার্কিন ডলার বা ১০ লাখ পাউন্ডের সমান। রাজ্য ও টেরিটরিগুলোর মাধ্যমে এসব টিকা বিতরণ করা হবে।
কৃষিমন্ত্রী জুলি কলিনস বলেছেন, বার্ড ফ্লুর প্রাদুর্ভাব বাড়তে থাকায় বন্য পাখিদের মধ্যে এবং সারা দেশে রোগটির বিস্তার পুরোপুরি ঠেকানো সম্ভব নয়। তবে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা ‘অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত প্রজাতি’গুলোকে লক্ষ্য করে টিকাদান কর্মসূচি চালানো হবে।
তিনি বলেছেন, ‘বন্য পাখিদের মধ্যে এইচ৫ বার্ড ফ্লুর বিস্তার আমরা থামাতে পারি না। তবে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ প্রজাতিগুলোকে রক্ষায় পদক্ষেপ নিতে পারি। অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত দেশীয় পাখি প্রজাতিকে লক্ষ্য করে টিকাদানের জন্য সম্মত জাতীয় পদ্ধতির ভিত্তিতে আগামী কয়েক দিন ও সপ্তাহের মধ্যে প্রথম টিকা দেওয়া শুরু হবে।’
কলিনস জানিয়েছেন, মানুষের জন্য এই রোগের ঝুঁকি এখনও কম। এ ছাড়া পোল্ট্রি বা কৃষি খাতে এই রোগের প্রভাব পড়েছে—এমন কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
চলতি মাসের শুরুতে অস্ট্রেলিয়া সরকার দেশটির ২ হাজারের বেশি অনন্য দেশীয় পাখি ও স্তন্যপায়ী প্রাণীর জন্য বার্ড ফ্লুর ঝুঁকির মাত্রা নির্ধারণ করে একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। এতে কয়েকটি প্রজাতিকে সম্ভাব্য বিলুপ্তির উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও শত শত প্রজাতির সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যেতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
সরকারের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো বার্ড ফ্লুর বিস্তার পুরোপুরি বন্ধ করা নয়, বরং সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা দেশীয় প্রজাতিগুলোকে রোগটির মারাত্মক প্রভাব থেকে রক্ষা করা। বিশেষ করে যেসব প্রজাতির সংখ্যা আগে থেকেই কম, তাদের টিকাদানের মাধ্যমে বিলুপ্তির ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা করা হবে।
সিডনি থেকে লানা ল্যাম জানিয়েছেন, অত্যন্ত সংক্রামক এইচ৫এন১ ধরনের বার্ড ফ্লুর সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়াই ছিল সর্বশেষ মহাদেশ।
সূত্র : বিবিসি




