সুইজারল্যান্ডকে পেছনে ফেলে বিশ্বের শীর্ষ সম্পদকেন্দ্র হংকং

ছবি: রয়টার্স
দীর্ঘদিনের আধিপত্য হারিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে বড় সীমান্তপারের সম্পদ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের অবস্থান থেকে সরে গেছে সুইজারল্যান্ড। নতুন বৈশ্বিক সম্পদ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, প্রথমবারের মতো হংকং এখন বিশ্বের শীর্ষ ‘ক্রস-বর্ডার ওয়েলথ হাব’ বা সীমান্তপারের সম্পদ সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।
বুধবার প্রকাশিত বোস্টন কনসালটিং গ্রুপের (বিসিজি) ২০২৬ সালের গ্লোবাল ওয়েলথ রিপোর্ট অনুযায়ী, বর্তমানে হংকংয়ে বিশ্বের ধনীদের প্রায় ২ দশমিক ৯৫ ট্রিলিয়ন ডলারের অফশোর সম্পদ রয়েছে। অন্যদিকে সুইজারল্যান্ডে রয়েছে প্রায় ২ দশমিক ৯৪ ট্রিলিয়ন ডলার। অল্প ব্যবধান হলেও এটিই প্রথম হংকং সুইজারল্যান্ডকে ছাড়িয়ে গেল।
বিশ্লেষকদের মতে, চীনের বিপুল সম্পদ প্রবাহ এবং ২০২৫ সালে হংকংয়ে আইপিও বাজারের উত্থান এই পরিবর্তনের বড় কারণ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, হংকং এখন ক্রমেই চীনের বৈশ্বিক আর্থিক প্রবেশদ্বার হিসেবে নিজের অবস্থান শক্ত করছে। তবে একই সঙ্গে এর অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎও চীনের নীতিগত ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত হয়ে পড়ছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আগামী ২০৩০ সাল পর্যন্ত হংকং ও সিঙ্গাপুরে সীমান্তপারের সম্পদ ব্যবস্থাপনার বাজার বছরে গড়ে প্রায় ৯ শতাংশ হারে বাড়তে পারে। তুলনায় একই সময়ে সুইজারল্যান্ডের প্রবৃদ্ধি হতে পারে প্রায় ৬ শতাংশ।
গত বছর বিশ্ব জুড়ে সীমান্তপারের সম্পদের পরিমাণ ৮ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ১৫ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। শক্তিশালী শেয়ারবাজার এবং ভৌগোলিকভাবে সম্পদ ছড়িয়ে রাখার প্রবণতা বৃদ্ধির কারণে এই প্রবাহ বেড়েছে বলে জানিয়েছে বিসিজি।
তবে প্রবৃদ্ধিতে পিছিয়ে পড়লেও সুইজারল্যান্ডের বড় শক্তি এখনো তার বৈচিত্র্যময় গ্রাহকভিত্তি। হংকং ও সিঙ্গাপুর মূলত চীনা সম্পদের ওপর নির্ভরশীল হলেও সুইজারল্যান্ড বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ধনী গ্রাহক আকর্ষণ করতে সক্ষম।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে নিরাপদ বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে এখনো সুইজারল্যান্ডের প্রতি আগ্রহ রয়েছে। চলমান সংঘাতের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলের অনেক ধনী ব্যক্তি তাদের সম্পদ সুইজারল্যান্ডে সরিয়ে নিচ্ছেন বলেও রয়টার্সকে জানিয়েছেন ব্যাংকার ও আর্থিক পরামর্শকরা।
বিসিজির সহ-লেখক মাইকেল কাহলিখ বলেছেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো গ্রাহকের কাছাকাছি থাকা।’ তার মতে, এখন বিশ্বে মূলত দুটি বড় সম্পদকেন্দ্র গড়ে উঠছে, এশিয়ার জন্য হংকং ও সিঙ্গাপুর, আর পশ্চিমা বিশ্বের জন্য সুইজারল্যান্ড, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র।
তিনি আরও বলেছেন, ‘গ্রাহকদের কাছাকাছি থাকার গুরুত্ব বাড়ায় সুইস ব্যাংকগুলোও এখন বিশ্বের বড় আর্থিক কেন্দ্রগুলোতে নিজেদের উপস্থিতি বাড়াচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি ইউবিএস ব্যাংকের কথা উল্লেখ করেন, যা বর্তমানে সিঙ্গাপুর ও হংকং— উভয় স্থানেই সম্পদ ব্যবস্থাপনায় শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে।






