যুক্তরাষ্ট্রে 'নো কিংস' বিক্ষোভে ট্রাম্প বিরোধিতায় লাখো মানষের অংশগ্রহন

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরোধিতাকারী ‘নো কিংস’ নেটওয়ার্কের উদ্যোগে শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি স্টেটের ২০০০ শহর ও এলাকায় বিক্ষোভ র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য ছিল ৩ নভেম্বর মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটারদের আগেভাগে ভোট দিতে উৎসাহিত করা ও ট্রাম্প নীতির বিরোধিতা। যার মধ্যে দ্রব্য মূল্যের উর্ধ্বগতি, ট্রাম্পের একতরফা যুদ্ধ ও ইমিগ্রেশন নীতির প্রতিবাদ।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির প্রতিবাদে 'নো কিংস' ব্যানারের অধীনে বিক্ষোভকারীরা যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। “নো কিংস” প্রতিবাদ কর্মসূচি হলো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব পালনের বিরুদ্ধে আয়োজিত ৪টি বড় ধরনের বিক্ষোভ সমাবেশের একটি সিরিজ। প্রথম পর্যায়ের বিক্ষোভগুলো অনুষ্ঠিত হয় ২০২৫ সালের ১৪ জুন। সেদিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্মদিন ছিল । একই সঙ্গে ওয়াশিংটন ডি.সি.তে মার্কিন সেনাবাহিনীর ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে একটি সামরিক কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। “নো কিংস” প্রতিবাদ কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্বটি অনুষ্ঠিত হয় ২০২৫ সালের ১৮ অক্টোবর। যেখানে আগের চেয়েও বেশি মানুষ সমবেত হয়। তৃতীয় পর্বটি ২০২৬ সালের ২৮ মার্চ অনুষ্ঠিত হয়। চতুর্থটি ১৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হলো। নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন ডিসি,ক্যালিফোরনিয়া, টেক্সাস, ফ্লোরিডা, কানেকটিকাট ও পেনসিলভানিয়ার মতো বড় বড় স্টেটের শহরগুলোতে লাখ লাখ মানুষ অংশ নেয়। এ বিক্ষোভগুলো ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে একদিনে আয়োজিত বৃহত্তম প্রতিবাদ কর্মসূচিগুলোর অন্যতম।
দেশব্যাপী 'নো কিংস' আন্দোলনের অংশ হিসেবে ফ্লোরিডার বিভিন্ন শহরে আয়োজিত এই সমাবেশগুলো সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল পর্যন্ত চলবে। পাম বিচ গার্ডেনস, ওয়েস্ট পাম বিচ, বয়ন্টন বিচ, বোকা র্যাটন এবং ওয়েলিংটনে এই কর্মসূচিগুলো পালিত হচ্ছে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, আগের কর্মসূচিগুলোর তুলনায় এবারের আয়োজনের মূল লক্ষ্য হলো ভোটারদের আগাম ভোটদানে উৎসাহিত করা।
'নো কিংস' আন্দোলনের নেপথ্যে থাকা তৃণমূল পর্যায়ের সংগঠন 'ইনডিভিজিবল' এর সহ—প্রতিষ্ঠাতা এজরা লেভিন বলেন, "আমরা গণতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছি। এখন দেখার বিষয়, ৩ নভেম্বর জনগণ কি রুখে দাঁড়াবে এবং কোনো স্বৈরাচারী ব্যক্তিকে ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে বাধা দেবে?"
শনিবারের এই কর্মসূচিটি ‘নো কিংস’ বিক্ষোভের চতুর্থ পর্যায়। এর আগের আয়োজনে সারা দেশ জুড়ে ৮০ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছিলেন। প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার রিপাবলিক্যান মাইক জনসন অবশ্য এই বিক্ষোভগুলোকে ‘হেট আমেরিকা র্যালি’ (আমেরিকা—বিদ্বেষী সমাবেশ) বলে অভিহিত করেছেন এবং রিপাবলিকানরা সামগ্রিকভাবে এগুলোকে ‘আমেরিকা—বিরোধী’ বলে আখ্যায়িত করে আসছেন।
ওয়েস্ট পাম বিচে ‘নো কিংস’ বিক্ষোভের অংশগ্রহণকারীরা ইন্ডি—পপ গায়িকা ‘আর্থ টু ইভ’ কে ঘিরে একটি বৃত্ত তৈরি করেন। এ সময় তিনি তাঁর ‘নো কিংস’ গানটি পরিবেশন করছিলেন। ওয়েস্ট পাম বিচ পুলিশ কর্মকর্তারা ‘আর্থ টু ইভ’কে মাইক্রোফোন ব্যবহার না করার নির্দেশ দিলে উপস্থিত জনতা তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এর কিছুক্ষণ পরেই, মাইক্রোফোন ছাড়াই ‘আর্থ টু ইভ’ গান চালিয়ে যান।
লাল রঙের ‘মাগা’ টুপি পরিহিত ট্রাম্পের দুজন সমর্থক বিক্ষোভকারীদের উসকে দেওয়ার চেষ্টা করলেও উপস্থিত জনতা তাঁদের কথায় তেমন কোনো গুরুত্বই দেননি।
এই কর্মসূচিকে দলনিরপেক্ষ হিসেবে তুলে ধরা হলেও ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সিতে অসন্তুষ্ট মানুষের গত প্রায় দুই বছর ধরে চালিয়ে আসা ‘নো কিংস’ মার্চ ও বিক্ষোভেরই ধারাবাহিকতা।
ওয়াশিংটনের লিঙ্কন মেমোরিয়ালে একটি ব্যান্ড দলের পরিবেশনায় হাজারো মানুষ অংশ নেন। তাদের পরনে ছিল টুপি ও কোট। কনকনে ঠান্ডা আবহাওয়া সত্ত্বেও ভিড়ের অনেকেই গানের তালে নেচে ওঠেন। এ সময় অনেকের হাতেই ‘আগেভাগে ভোট দিন’ এবং ‘আমার ভোটে হাত দেবেন না!’ এমন সব বার্তা লেখা প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে নিউ ইয়র্ক সিটি ও ট্রাই—স্টেট এলাকায় হাজার হাজার মানুষ ‘নো কিংস’ বিক্ষোভে অংশ নেন। শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬ তারিখে নিউ ইয়র্ক সিটির ম্যানহাটনের ওয়াশিংটন স্কয়ার পার্কে ‘নো কিংস: কর্মসূচিতে কয়েক ৫০ হাজার মানুষ অংশ নেয়।
আটলান্টায় আয়োজিত এক র্যালিতে সিটি কাউন্সিলম্যান মাইকেল জুলিয়ান বন্ড উপস্থিত জনতাকে আহ্বান জানান, তারা যেন ৩ নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনের আগে ভোট দিতে উৎসাহিত করেন। তিনি বলেন, সংবিধান আপনাদের একটি ক্ষমতা দিয়েছে, তাই না? আর সেটি হলো ভোট দেওয়ার ক্ষমতা। আপনারা সেই ক্ষমতা ব্যবহার করুন।



