আড়াইশ দিনের বেশি সাগরে মার্কিন রণতরী, উদ্বেগ বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্রে

জাহাজটির নাম ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। ছবি : সংগৃহীত
টানা ২৫০ দিনেরও বেশি সময় সাগরে অবস্থান করছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিমানবাহী রণতরী। এতে থাকা প্রায় ৫ হাজার নৌসদস্যের জীবনযাপন নিয়ে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। রয়েছে খাবারের সংকট, নষ্ট প্লাম্বিং, পানির সমস্যা ও দীর্ঘ সময়ের ক্লান্তি।
জাহাজটির নাম ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। এর সদস্যদের কয়েকজন সাগরে ঝাঁপ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। জাহাজে থাকা সদস্যদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছেন তাদের পরিবারের সদস্যরা।
এমন পরিস্থিতি নিয়ে পেন্টাগনের কাছে জবাব চেয়েছেন মার্কিন আইনপ্রণেতারা। একই সঙ্গে ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী এত দীর্ঘ সময় ধরে এমন অভিযান চালিয়ে যেতে পারবে কি না, উঠেছে সেই প্রশ্নও।
তবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ গতকাল বৃহস্পতিবার এসব পরিস্থিতিকে সম্পূর্ণ ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন।
ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন গত নভেম্বরে ক্যালিফোর্নিয়া ছেড়ে দক্ষিণ চীন সাগরের দিকে যায়। এরপর ফেব্রুয়ারিতে ইরানে হামলার আগে এটিকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়।
জাহাজটির অভিযান মে মাসে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কয়েক দফা তা বাড়ানো হয়েছে। এখনো ফেরার কোনো নির্দিষ্ট তারিখ জানানো হয়নি।
তবে বৃহস্পতিবার একাধিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র রণতরীটি বদলে ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। এটি আগে থেকেই নির্ধারিত রোটেশন পরিকল্পনার অংশ বলে জানা গেছে।
এদিকে, জাহাজটিতে প্রায় ৫ হাজার মানুষ রয়েছেন। তাদের দৈনন্দিন জীবন নিয়ে সামনে এসেছে একাধিক নেতিবাচক ঘটনা।
কানেকটিকাটের ডেমোক্র্যাট সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথকে লেখা এক চিঠিতে এসব সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন।
রিচার্ড ব্লুমেনথাল জানিয়েছেন, জাহাজে মৌলিক প্রয়োজনীয় সামগ্রীর ঘাটতি রয়েছে। রয়েছে পানিদূষণ। প্লাম্বিং ব্যবস্থা নষ্ট। ঘটছে মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি।
এ ছাড়া ডেকের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। ডাকব্যবস্থায়ও সমস্যা তৈরি হয়েছে। ফলে জাহাজে পাঠানো অনেক পার্সেল মাসের পর মাঝ পথেই হারিয়ে যাচ্ছে।
ব্লুমেনথাল বলেছেন, এসব নেতিবাচক পরিস্থিতির বিষয়ে অবিলম্বে নজর দেওয়া প্রয়োজন।
তবে এসব নেতিবাচক পরিস্থিতির বিষয়ে মার্কিন নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জাহাজে আত্মহত্যার চিন্তা বা আত্মহত্যার চেষ্টার রিপোর্ট বেড়েছে—এমন কোনো তথ্য তারা পাননি।
তার দাবি, প্রচলিত সরবরাহকেন্দ্রগুলো যুদ্ধের কারণে ব্যাহত হয়েছে। ফলে জাহাজে প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বর্তমানে অত্যাবশ্যকীয় সামগ্রী পৌঁছানোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
ওই কর্মকর্তা বলেছেন, প্রথমে খাবার, এরপর স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতার সামগ্রী তারপর হলো ডাক।
গত বুধবার তিনি আরও জানান, জাহাজ থেকে পাওয়া সর্বশেষ প্রতিবেদনে পরিষ্কার পানির নিয়মিত সরবরাহ, সচল শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্যকর খাবারের প্রাপ্যতার কথা নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও নেতিবাচক পরিস্থিতিগুলো নাকচ করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি বলেছেন, প্রতিটি জাহাজ, প্রতিটি নৌসদস্য এবং প্রতিটি ক্যাপ্টেনকে সবসময় যতটা সম্ভব প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করে সরকার।
হেগসেথ বলেছেন, দীর্ঘ সময় সমুদ্রে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে কম বন্দরে যাতায়াত করে দায়িত্ব পালন করা নৌসদস্যদের কাজ অসাধারণ।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলসও জানিয়েছেন, হেগসেথ ও ট্রাম্প উভয়েই মার্কিন সামরিক বাহিনীকে দেশের যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও সম্পদ দেওয়ার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
সূত্র : বিবিসি









