ইরানের সঙ্গে আজই চুক্তি হতে পারে, ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি
ইরানের সঙ্গে রবিবার স্থায়ী যুদ্ধবিরতির জন্য একটি চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
স্থানীয় সময় শনিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেছেন, চুক্তিটি হলে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি সবার জন্য খুলে যাবে।
প্রধান মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানও আশা করছে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চুক্তিটি চূড়ান্ত হবে। ইসলামাবাদ জানিয়েছে, তারা ভার্চুয়ালি ইলেকট্রনিক স্বাক্ষরের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ট্রুথ সোশ্যালের পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, চুক্তিটি আগামীকাল সই হওয়ার কথা রয়েছে এবং এটি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই হরমুজ প্রণালি সকলের জন্য উন্মুক্ত হয়ে যাবে।
ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদের প্রতি ইঙ্গিত করে ট্রাম্প লিখেছেন, উপযুক্ত সময়ে, যখন পরিস্থিতি শান্ত হবে, আমরা সেখানে গিয়ে পারমাণবিক ধূলিকণাও নিয়ে আসব এবং পরে তা ধ্বংস করে দেওয়া হবে।
কয়েক দশক ধরে পশ্চিমা দেশগুলো ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টার অভিযোগ করে আসছে। ইরান এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, তাদের কর্মসূচি বিদ্যুৎ উৎপাদন ও গবেষণার শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে।
ট্রাম্প আরও সতর্ক করেছেন, যদি বিষয়গুলো দ্রুত, সহজে এবং মসৃণভাবে সমাধান না হয়, তবে ওয়াশিংটনের কাছে চূড়ান্ত বিকল্প রয়েছে। যদিও আশা করা যায়, আর কখনও এটা ব্যবহার করতে হবে না!
এর আগে, শনিবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সামাজিকমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, আমরা শান্তি চুক্তির আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে কাছাকাছি আছি।
তিনি লিখেছেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় পাকিস্তান ইলেকট্রনিক স্বাক্ষরের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। এরপরে আগামী সপ্তাহে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
যদিও ইরান চুক্তির সময় নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে। শুক্রবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়েদ আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত।
তিনি বলেছেন, এই চুক্তিতে লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার সংঘাতের অবসানের কথাও বলা হয়েছে।
আরাঘচি ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে জানিয়েছেন, এই চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ তুলে নেওয়ার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তবে তিনি বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পরে শুরু হবে।
ওয়াশিংটনের কর্মকর্তারা চুক্তির কিছু বিবরণ নিশ্চিত করে বলেছেন, ইরানের অর্থনৈতিক সুবিধা নির্ভর করবে তেহরান তার বাধ্যবাধকতা কতটুকু পূরণ করতে পারবে তার ওপর।
যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল, লেবানন এই চুক্তির অংশ নাও হতে পারে। তবে, ইরান এতে জোর দিচ্ছে বলে জানা গেছে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বেশ কয়েকবার চুক্তির সম্ভাবনা জাগলেও, তা শেষ পর্যায়ে সম্পন্ন হয়নি।
সূত্র: বিবিসি


